মৌসুমি রসালো ফলের কথা শুনলে কার না জিহ্বায় জল আসে। আর যদি হয় দামে সস্তা তাহলে তা কথাই নেই। অবাক হলেও সত্য এবারের মৌসুমি ফল আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন, তালসহ আরও কত ফল সস্তাদরে মিলছে হরহামেশাই।
দেশের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অথবা বাজারের দোকানগুলোতে বাহারি ফলের পসরা সাজিয়ে রেখে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে আম। গত বছরের তুলনায় এবার কম দামেই মিলছে কাঁঠাল, তাল, জাম, লটকন।
বিক্রেতারা বলছেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে আত্মীয়দের বাসায় ফল নিয়ে যেতে পারছেন না। অনেকে বাসা থেকে বেরোচ্ছেন না, গ্রামে ছুটিতে যাচ্ছেন না। এসব কারণে এবার ফলের দাম কমেছে।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকানগুলো ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা এসব চিত্র উঠে এসেছে।
রাজধানীর মতিঝিল, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর মৈত্রী মাঠ, রেলগেট, মালিবাগ বাজার ও রেলগেট সললগ্ন বাজার এবং রামপুরা এলাকার বাজারগুলোতে প্রতিকেজি হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ল্যাংড়া আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কহিতর ৭০ থেকে ৯০ টাকা, আম্রপালি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, কাঁচা মিঠা ৬০ টাকা, টক আম (কাঁচা) ৩০ টাকা কেজিদরে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে বেদানা লিচু ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বোম্বাই লিচু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, চায়না থ্রি লিচু ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। যদিও চায়না থ্রি লিচু এখন বাজারে পর্যাপ্ত নেই, যেগুলো আগেই বাজারে এসেছিল।
গত বছরের তুলনায় এবার মৌসুমি ফলের দাম কম হওয়ায় বেশ সানন্দে কিনছেন নগরবাসী। তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা।
খিলগাঁও বাজারের এক ক্রেতা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফলের দাম কম আছে। আমরাতো ভয়ে ছিলাম না জানি করোনাকালে ফলের দাম আকাশছোঁয়া হয় কিনা। যাই হোক এবার ফলের সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কমেছে।
খিলগাঁও রেলগেট এলাকার আম ও লিচু বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ এবার তার আত্মীয়ের বাসায় মৌসুম ফল নিয়ে বেড়াতে যেতে পারছেন না। অনেকে বাসা থেকে বেরোচ্ছেন না, গ্রামে ছুটিতে যাচ্ছেন না। অন্য বছর শহর থেকে গ্রামে গেলে ফল কিনতো এবার সেটা নেই। এসব কারণে এবার ফলের দাম কমেছে।
রেলগেট সংলগ্ন স্থানে কাঁঠাল বিক্রেতা তমাল বলেন, আমি গাজীপুর থেকে প্রতিদিন কাঁঠাল নিয়ে আসি। প্রতিবছর আমি এ সময়টাতে আমি কাঁঠালের ব্যবসা করি, এবারই সবচেয়ে কম দামে কাঁঠাল খেতে পারছেন নগরবাসী।
