ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সুমিত্রা দাস নামে এক নারী। বুধবার (১২ আগস্ট) কলকাতার কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন এলাকায় নতুন গাড়ি নিয়ে পুকুরে পড়ে তিনি প্রাণ হারান। পরে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গাড়ির ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সুমিত্রা দাস তার মেয়েকে স্কুটারে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরই গ্যারেজ থেকে স্বামীর হুন্ডাই ইয়ন গাড়িটি বের করেন। একপর্যায়ে গাড়ি চালানোর অনুশীলনের সময় হঠাৎ সেটি পুকুরে পড়ে যায়।
পরে গাড়িটি পুরোপুরি পানিতে ডুবে যায়। তাকে উদ্ধারের জন্য অনেক চেষ্টা করা হলেও সুমিত্রাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা পুকুর থেকে গাড়িটি তুলে আনেন।
গাড়িটি পানি থেকে তোলার পর ভেতরে সুমিত্রার মরদেহ পাওয়া যায়। তার মুখ ছিল গাড়ির পেছনের দরজার দিকে এবং পা ছিল স্টিয়ারিংয়ের কাছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় তিনি বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, সুমিত্রার স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস সম্প্রতি গাড়িটি কিনেছিলেন। আগামী ২২ আগস্ট সুমিত্রার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি গাড়ি চালানোর অনুশীলন করছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, গাড়ি চালানোর সময় অনভিজ্ঞ সুমিত্রা ভুল করে ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেন। এতে গাড়িটি দ্রুতগতিতে পুকুরের মাঝখানে চলে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়।
সুমিত্রার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
