এক রোগীর আত্মীয় এসে বললেন, ‘ডাক্তার সাহেব আগে শুনলাম আমার রোগীর টিউমার হয়েছে, এখন শুনি ক্যানসার’। এই কথাগুলো অনেক রোগী অথবা রোগীর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রায়ই শুনতে হয়। তারা কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আমার রোগীর টিউমার হয়েছে, নাকি ক্যানসার?’ প্রকৃতপক্ষে ক্যানসার এক ধরনের টিউমার। টিউমার হলো শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোনো চাকা বা ফুলে যাওয়া। টিউমারের প্রধান লক্ষণ হলো লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া, আক্রান্ত জায়গায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া। সব লক্ষণ সব টিউমারে নাও থাকতে পারে। টিউমার দুই রকম; বিনাইন বা নিরীহ বা শান্ত এবং ম্যালিগন্যান্ট বা আগ্রাসী। বিনাইন টিউমার সাধারণত একই রকম থাকে অথবা খুব ধীরে ধীরে বড় হয়। এরা সাধারণত বড় কোনো সমস্যা তৈরি করে না। এরপরও কিছু টিউমার শরীরে মেকানিক্যাল সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে বিনাইন টিউমার ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হয়। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার খুবই আগ্রাসী হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা না করলে রোগী দ্রুত মৃত্যুবরণ করেন। তাই শরীরে যেকোনো অস্বাভাবিক চাকা বা ঘা যদি স্বাভাবিক চিকিৎসায় নিরাময় না হয়, তবে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে ক্যানসার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।
ক্যানসারের কিছু সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-
অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অবসাদ
কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া অথবা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন।
দীর্ঘমেয়াদি কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা।
পায়খানা অথবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসা।
পায়খানা ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন। যেমন- ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য।
শরীরের কোনো স্থান থেকে অস্বাভাবিক কোনো তরল বের হওয়া।
স্তন, অণ্ডকোষ অথবা অন্য কোনো স্থানে চাকা হওয়া।
আঁচিল বা তিলের হঠাৎ পরিবর্তন।
খাবার গেলার সময় গলা কিংবা বুকে চাপ অনুভব করা।
অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়া, এমনকি না খেলেও পেট ভরে আছে অনুভূত হওয়া।
