গত বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বের ১ শ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা

ক্ষমতাধর এক শ নারীর তালিকা গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস সাময়িকী। এ বছরেও তালিকায় আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে বিশ্বের ২৯ তম ক্ষমতাধর নারী তিনি। তালিকাটিতে টানা নবমবারের মতো শীর্ষে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল।
শেখ হাসিনা গত বছরের তালিকায় ছিলেন ২৬ তম। সেই হিসাবে এবার তিন ধাপ পিছিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে তাঁর অবস্থান ছিল ৩০ তম।
ব্যবসা, মানবসেবা, গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে যেসব নারী নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছেন, সেসব কীর্তিময়ীকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই তালিকা। ক্ষমতাধর এই শত নারীর তালিকা প্রসঙ্গে ফোর্বস-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ময়রা ফোর্বস বলেছেন, এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী নারীদের তালিকায় যাঁরা স্থান পেয়েছেন, তাঁরা একেকজন উদ্ভাবক ও অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী। তাঁরা প্রচলিত ক্ষমতাকাঠামোকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।
ফোর্বস-এর প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী। তিনি টানা তৃতীয়বার এবং সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর ক্ষমতাধর নারীদের নিয়ে তালিকা প্রকাশ করছে ফোর্বস। এ নিয়ে ১৬টি তালিকার মধ্যে ১৩ টিতে শীর্ষে স্থান পেলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। প্রথম দুই বছর অর্থাৎ ২০০৪ ও ২০০৫ সালে শীর্ষে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস। আর ২০১০ সালে ছিলেন তখনকার মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা।
এবার দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্সের ক্রিস্টিন লগার্ড। প্রথম কোনো নারী হিসেবে ২০১৯ সালে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। সমগ্র ইউরোপের মুদ্রানীতির দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলেরও (আইএমএফ) প্রথম নারী প্রধান ছিলেন তিনি।
তৃতীয় প্রভাবশালী নারী হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও ডেমোক্রেটিক সদস্য ন্যান্সি পেলোসি। মার্কিন রাজনীতিতে নির্বাচিত নারীদের মধ্যে তিনিই শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী একমাত্র নারীও তিনি।
চতুর্থ স্থানে থাকা জার্মান নাগরিক উরসুলা ভন ডান লেয়েন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট। এই কমিশনে প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৯ সালে নিযুক্ত হন তিনি। ম্যার্কেলের মন্ত্রিসভায় ১৪ বছর ধরে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ছয় বছর ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে।
পঞ্চম ক্ষমতাধর নারী মেরি বারা। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরসের এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তালিকায় থাকা শীর্ষ পাঁচ নারীর মধ্যে দ্বিতীয় মার্কিন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি জেনারেল মোটরসের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশবান্ধব পরিবহন খাত প্রতিষ্ঠায় শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন তিনি।
এ বছর তালিকায় প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছেন ২৩ নারী। তাঁদের মধ্যে অন্যতম জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সোচ্চার কিশোরী পরিবেশকর্মী সুইডিশ নাগরিক গ্রেটা থুনবার্গ (১৬)। সে টাইমস পত্রিকার এ বছরের বর্ষসেরা ব্যক্তিও। ফোর্বস-এর তালিকায় সে শততম ও কনিষ্ঠ ক্ষমতাধর নারী।
তালিকায় থাকা অন্য উল্লেখযোগ্য নারীদের কয়েকজন হলেন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস (ষষ্ঠ), যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে (২০ তম), ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (৩৪), ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ (৪০ তম), যুক্ররাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প (৪২ তম), মার্কিন সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফট (৭১ তম), মার্কিন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস (৮১ তম) ও সৌদি নাগরিক ও ব্যাংকার রানিয়া নাশার (৯৭)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *