কেরানীগঞ্জে ঘাট বন্ধের প্রতিবাদে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝিদের বিক্ষোভ মিছিল

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি. ঢাকার কেরানীগঞ্জে কালিগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীতে ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝিরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে। বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাট সংলগ্ন খেয়া পারাপারের তিনটি ঘাট বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কেরানীগঞ্জে কালিগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর হাজার হাজার ব্যবসায়ী তাদের দোকান ও গার্মেন্টস কারখানা বন্দকরে রাস্তায় নেমে আসে। কারন এ ঘাট তিনটি দিয়েই ব্যরসায়ীরা গার্মেন্টস সামগ্রী কেনার জন্য গার্মেন্টস পল্লীতে আসে। এছাড়া হাজার হাজার নৌকার মাঝি বেকার হয়ে যাওয়ায় মাঝিরাও বিক্ষোভ মিছিল করে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে এ ঘাট তিনটি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য পন্টুণ স্থাপন করে দেয় বিআইডব্লিউটি এ’র লোকজন। এছাড়া ওইসব ঘাট দিয়ে পারাপারের লোকজনের জন্য পাশ্ববর্তী নাগরমহল পণ্টুন থেকে ওপারের নবাববাড়ি সংলগ্ন বাদামতলী এলাকায় স্থাপিত পন্টুনে পারাপারের জন্য দুটি ওয়টার বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছেন বিআইডবি¬উটিএ কর্তৃপক্ষ। এতে করে বিপাকে পরেছে ওইসব ঘাট ব্যবহারকারি পথচারি-ব্যবসায়ী ও নৌকা মাঝিরা। তাই তারা ওই তীরের ঘাট বন্ধের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছেন। খেয়া পারাপারের নৌকার মাঝি আবুল হাসেম বলেন, সরকার খেয়াঘাট বন্ধ করে আমাদের পেটে লাথি মেরেছে। কি করে আমরা বেচে থাকবো। নৌকা চললে আমাদের সংসার চলবে। বরিশাল থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, মাল কিনছি এখন কোন লেবার লঞ্চে নেতে চায়না। আগে একটা বোস্তা নেতাম ৫০ টাকায় এখন চায় ১০০টাকা। আবার ওই পার থেকে কত টাকা লাগে জানিনা। মোট কথা মুই এহোন কি হরমু বুজিনা। এভাবে তার অনুভুতির কথা জানালেন। কেরাণীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মো.মুসলিম ঢালী বলেন, লঞ্চ মালিকদের গাফলতি ও অপরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন স্থানে লঞ্চ নোঙ্গর করার কারনে নৌ দূর্ঘটনা ঘটে। পরিকল্পিত ভাবে টারমিনালে লঞ্চ নোঙ্গর করলে ও ছেরেগেলে কোন দূর্ঘটনা ঘটবেনা। একটা মহল এখান কার গার্মেন্টস ব্যবসা ধ্বংস কারার চক্রান্ত করছে। এ ঘাট তিনটি বন্ধ হলে এখানকার গার্মেন্টস ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে । এব্যাপারে বি আই ডাব্লউ টি এ এর যুগ্ম পরিচালক এ কেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, এখানে একাধিকবার নৌ দূর্ঘটনা ঘটেছে। আর যাতে নৌ দূর্ঘটনা না ঘটে তাই আমরা জন সাধারাণের জান মালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *