করোনায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার কেরানীগঞ্জে করোনাভাইরাস আতংকের মধ্যেও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে। এতে সমাজের তৃনমূল পর্যায়ের হতদরিদ্র মানুষগলো এ কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে তারা বেশ উপকৃত হচ্ছে। এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে শতকরা ৯৫ ভাগ নারীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন সেবা যেমন,গর্ভবতী ও প্রসবকালীন সেবাই বেশি দেয়া হয়। এসব কেন্দ্রে প্রসুতি মায়ের স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। এছাড়া শিশু ও কৈশর বান্ধব সেবাও প্রদান করা হয়ে থাকে। অপরদিকে এসব সেবা ছাড়াও ছোট-খাট রোগের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এসব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

সরেজমিন প্রতিবেদনে জিনজিরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, এ করোনা মহামারির সময়েও অনেক নারী ওই কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য এসেছেন। কাজিরগাঁও থেকে শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা মিতা নামে এক নারী জনান, তার ও তার সন্তানের চিকিৎসা করানোর জন্য এখানে এসেছেন তিনি। সে প্রয়োজনীয় সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তেমনি জিনজিরা ইউনিয়নের নজরগঞ্জ থেকে আসমা বেগম, মনি বেগম, হাউলি থেকে শিল্পি, ডাকপাড়া থেকে আইরিন বেগম ও মান্দাইল থেকে পলি আক্তার এসেছেন তাদের মাতৃত্বকালীন বিভিন্ন সেবা নেয়ার জন্য। তারা সবাই জানান, একেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত আপাদের ব্যবহার ভালো। তারা তাদের চাহিদা মোতাবেক সেবা প্রদান করে থাকেন এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সবধরনের ওষুধপত্র সরবরাহ করেন।

একেন্দ্রে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাসহ ৪ জন ষ্টাফ রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মমতাজ শিরীন জানান, করোনাভাইরসের এ মহামারির মধ্যে তারা নিজেদেরকে বিশেষ নিরাপত্তায় রেখে তাদের কেন্দ্রে আসা রোগীদেরকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ চিকিৎসা না পেয়ে এখন ফিরে যাচ্ছে না। করোনার আগে বেশি রোগী আসত। এখন দিনে কমপক্ষে ৫০-৬০ জন রোগী আসেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদ সুলতানা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে মাতৃত্বকালীন রোগাীদের বেশিরভাগ সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। তাই তাদের বেশি গুরুত্ব দিয়েই এ করোনা মহামারির মধ্যেও সব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *