স্টাফ রিপোর্টার: সড়ক দূর্ঘটনায় পদ্মা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী স্বর্ণা আক্তার নিহত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় কামারগাঁও আইডিয়াল স্কুলের সামনে মোটরসাইকেল এবং মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে এই দূর্ঘটনা ঘটে। স্বর্ণা পদ্মা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার শিক্ষার্থী। স্বর্ণা পদ্মা সরকারি কলেজের রোভার স্কাউট সদস্য এবং মেধাবী ছাত্রী ছিল। তাহার বাবার নাম সেকেন্দার খালাসী এবং নানীর বাড়ি মুকসুদপুর ইউনিয়নের ঢালারপাড় বসবাস করতেন। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে মেজো ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বর্ণা আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে খন্ডকালীন কাজ করে এবং টিউশনি করে নিজ পড়াশোনার খরচ চালাতো।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেলে কামারগাঁও আইডিয়াল স্কুলের সামনের রোড ডিভাইডার অতিক্রম করে কলেজে আসার সময় স্বর্ণা পড়ে গেলে পিছনে থাকা ইট বহনকারী মাহিন্দ্রার চাকা স্বর্ণার মাথা থেতলে দেয়। সাথে সাথে ঘটনাস্থলেই স্বর্ণা নিহত হয় এবং মাহিন্দ্রা চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পদ্মা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো: জালাল হোসেন ঘটনা শোনার সাথে সাথে শিক্ষকদের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন, তিনি বলেন, আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমার শিক্ষার্থী, আমার সন্তানের মৃত্যুতে আমি শোকে বিহবল। আমি স্বর্ণার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি কলেজের পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
তিনি আরও বলেন, প্রায় প্রতি বছরই আমাদের শিক্ষার্থীরা সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। এই দু:খ আমরা কোথায় রাখবো? আমরা এর স্থায়ী এবং আইনানুগ প্রতিকার চাই। লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল এবং মাহিন্দ্রা ও ট্রাক নিষিদ্ধ করা হোক। আমরা স্বর্ণার মৃত্যুর সাথে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কেউ জড়িত থাকলে, সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানাই। কলেজের পক্ষ থেকে দোয়া ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। একইসাথে, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সচেতন হতে আন্তরিক অনুরোধ জানান উপাধ্যক্ষ মো: জালাল হোসেন। শ্রীনগর থানা পুলিশ তদন্তের স্বার্থে স্বর্ণার লাশ থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
