বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আমিরাতে শারদীয় দুর্গাপূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আরব আমিরাত থেকে: ঢাকের বোল, শঙ্খধ্বনি, কাসির আওয়াজ আর দেবীবন্দনায় মুখর ছিল প্রবাসে শারদ উৎসবের মন্ডপগুলো।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় ১৪ টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুর্গাপূজা আজ শেষ হলো বিজয় দশমী। প্রবাসীরা মনে করেন আরব আমিরাতের সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রবাসীদের ২৩তম দুর্গোৎসব। উৎসবের ছয় দিন ধরে শিশু থেকে কিশোর, বৃদ্বা আনাগোনা ছিল প্রচুর। ধুপ, আগরবাতি, মায়ের বন্দনা, মায়ের পূজায় ছিল মন্ডপে মন্ডপে ধুনচি নৃত্য।
প্রতিদিন সকালে মায়ের পূজার সাথে ছিল অঞ্জলি প্রদান।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে এবার আমিরাতের ১৪টি স্থানে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। আবুধাবি, আল আইন, দুবাই,শারজা, আজমান ও রাস আল খাইমায় ছিল পূজার আয়োজন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎসব হয়েছে আজমানে, প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে।
আয়োজকেরা জানান, সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী অংশ নিয়েছেন। দেবী দর্শনের পাশাপাশি পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গা মেলা প্রবাসে হয়ে উঠেছিল একটুকরো বাংলাদেশ।

উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, ২০০৪ সালে আল আইনে প্রথম দুর্গোৎসবের আয়োজন শুরু হয়। এরপর দুবাই ও আবুধাবিসহ বর্তমানে আমিরাতের সব প্রদেশেই উৎসবটি পালিত হচ্ছে।

এবারের উৎসবে ছিল দুর্গা মেলা, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ ও সিঁদুর খেলা। দশমীর দিনে ঢাকের কাঠি, ধুপ-ধনা শুভাশার সংশোধনীতে চারদিকে বিদায় এর সুর। বিষাদ আর আনন্দের এক অপূর্ব সংমিশ্রণে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। সবশেষে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। অশুভের ওপর শুভের জয়ের প্রতীক এ উৎসবে দশমীর দিন বিদায়ের এই আয়োজন সবচেয়ে আবেগঘন। সিঁদুর খেলায় বিবাহিত নারীরা দেবীকে সিঁদুর নিবেদন করে একে অপরের মুখে তা মাখিয়ে দেন, যা দেবীর স্বামীর ঘরে ফেরার প্রতীক। আয়োজকরা আরো বলেন মাকে বিদায় দেওয়ার সময় অনেক খারাপ লাগছে এবং আগামী বছর আবার দুর্গাপূজায় দেখা হবে সে আশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশী কমিউনিটি ছাড়াও কলিকাতার বিভিন্ন কমিউনিটি বিভিন্ন জায়গায় দুর্গাপূজা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *