নিয়ম লঙ্ঘন করে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহনের অভিযোগ

নববাংলা প্রতিবেদক : নিয়ম লঙ্ঘন করে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙ্গরে পণ্য পরিবহনের অভিযোগ করেছেন পণ্যবাহী জাহাজ মালিকরা। তারা বলেছেন, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল এর বিধান ও সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে সিরিয়াল ছাড়াই জাহাজে পণ্য লোড ও পরিবহন করা হচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর টিসিবি ভবনে সামাজিক দুরত্ব রক্ষা করে এক মতবিনিময় সভায় জাহাজ মালিকেরা এসব অভিযোগ করেন।সভায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ডব্লিউটিসি এর কনভেনর ও কো-কনভেররের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে ‘নৌযান ব্যবসা রক্ষায় সম্মিলিত সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়। ওয়াটার টান্সপোর্ট সেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয়। 
জাহাজ মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও স্থল, আকাশ ও নৌ-পথ দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে সমুদ্র বন্দর নৌ-পথ দিয়েই দেশের ৮০% পণ্য পরিবহন করা হয়।তারা বলেন, প্রতি বছর দেশের মোট পণ্যের প্রায় ২.৫ কোটি মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করা হয় নৌ সেক্টরের মাধ্যমে এবং এর প্রায় ৬০% পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পরিবহন করা হয় বিভিন্ন নৌ-যান এর মাধ্যমে।

মালিকরা বলেন, নদী পথে ছোট বড় প্রায় ৫ হাজার এর অধিক নৌ-যান (জাহাজ) চলাচল করে। তাদের অভিযোগ, কিছু অযোগ্য ও অসাধু জাহাজ মালিক নেতা এবং কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে জাহাজ মালিকরা দিন দিন পথে বসে যাচ্ছেন। 

নৌ-সেক্টরে আনুমানিক ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) কোটি টাকা বিনিয়োগ করা আছে এবং প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে এই সেক্টর থেকে জমা করে দেশের উন্নয়নে অংশ গ্রহণে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলেও জানান।

চরম উৎকণ্ঠায় আছেন জাহাজ মালিকরা,পণ্যবাহী জাহাজে নৈরাজ্য ঠেকাতে সম্মিলিত সংগ্রাম কমিটি ঘোষণা

 তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ডব্লিউটিসি এর ছাড়পত্রের মাধ্যমে সিরিয়াল অনুযায়ী পণ্য পরিবহন করা হলে জাহাজ মালিকরা মাসে অন্তত ১ থেক ২ টি ট্রিপ পান। কিন্তু বর্তমানে ডব্লিউটিসি এর কনভেনর ও কো-কনভেনার এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সেচ্ছাচারিতা এবং পণ্যের এজেন্টদের দুর্নীতি  ও লোভের কারনে জাহাজ মালিকরা ৩ মাসেও একটি ট্রিপ পাচ্ছেন না। ৩ মাস পরে ১টি ট্রিপ পেলেও জাহাজের ভাড়া পণ্যের এজেন্টরা দিতে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে ৪/৫ জন পণ্যের এজেন্ট ও জাহাজ মালিক সিরিয়াল ও ডব্লিউটিসি এর ছাড়পত্র ব্যাতীত প্রতি মাসে প্রতিনিয়ত ট্রিপ নিচ্ছেন। 

এছাড়া বেআইনী ভাবে অদক্ষ চালকদের দিয়ে বাল্কহেডের মাধ্যমেও বহিঃনোঙ্গর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করার সুযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন পন্যবাহী জাহাজ মালিকরা। ফলে সাধারণ জাহাজ মালিকদের সিরিয়াল এখন প্রায় ৮০০ জাহাজ এর উপরে।

বর্তমানে প্রায় ৮০০ টি লাইটার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অলসভাবে বসে আছে ও প্রায় ৪৫০টি জাহাজ বিভিন্ন গন্তব্যে মাল খালাসের অপেক্ষায় আছে এবং প্রায় ৩০০ জাহাজ অনিশ্চিত ডকে বসে প্রহর গুনছে বলে মত বিনিময়ে সভায় দাবি করেন সাধারণ মালিকরা। এসব অভিযোগ তুলে ধরে পন্যবাহী সাধারণ জাহাজ মালিকরা ৬ দফা দাবি পেশ করেন।  দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১) অবিলম্বে সরকারী গেজেট ২০১৪ সালের বাস্তবায়ন ও কার্যকরের মাধ্যমে জাহাজ পণ্য পরিবহন করা। সমস্ত লাইটার ভেসেল ডব্লিউটিসি এর মাধ্যমে পরিবহন করা।
২) কার্গো মালিকদের পাওনা ও ডেমারেজ বিল অতিসত্তর হালনাগাদ করা। 
৩) যথাযথভাবে শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য পণ্যের মালিকদের নিকট কার্গো মালিকদের পণ্যের সকল বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করা।
৪) বহিঃনোঙ্গর হতে বাল্কহেডে পণ্য পরিবহণ বন্ধ করা।
৫) যারা নিয়ম অমান্য করে পণ্য পরিবহণ করছেন তাদের পণ্যের এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬) ডব্লিউটিসি এর গেজেট অনুযায়ী ডব্লিউটিসি এর মেয়াদোত্তীর্ণ অযোগ্য কমিটি ভেঙে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নতুন কমিটি তৈরি করা।

৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে ‘নৌ-যান ব্যবসা রক্ষায় সম্মিলিত সংগ্রাম কমিটি’ ঘোষণা করা হয়।

সংগ্রাম কমিটিতে ইকবাল হোসেনকে আহ্বায়ক ও ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবিরকে সদস্য সচিব, মাহবুব উদ্দীন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়। এছাড়া এস এস রহমান গ্রুপের চেয়ারম্যান রকিবুল আলম দিপুকে সম্মিলিত সংগ্রাম কমিটির মুখপাত্র করা হয়। 

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পণ্যবাহী জাহাজ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি খুরশীদ আলম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *