এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী, (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নৌকা চোর সন্দেহে মাটি কাটা শ্রমিক রোমান(৩২) নামে এক যুবককে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করে ট্রলারে তুলে নেওয়ার পর ৭দিন ধরে নিখোঁজ সন্ধানের দাবীতে থানার ভিতরে বিক্ষোভ করেছে তার স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার বিকেলে উপজেলার আরধীপাড়া কানাইনগর থেকে মিছিল নিয়ে থানার ভেতরে এসে বিক্ষোভ করে তারা। পরে তাদেরকে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার আরধীপাড়া কানাইনগর এলাকায় প্রায় ৪ মাস আগে ইব্রাহীমদের তিন হাজার টাকা মুল্যের একটি কোষা নৌকা চুরি হয়। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে ওই এলাকার, পিন্টু(৩৫), ইব্রাহীম(৬৫) মিজানুর (৩০), আতিক (১৮), ইমরান(২৩), দিল (৭০), ইয়ানুছ (৬০), বিল্লাল (৬০) কানাইনগর বালুর মাঠের সামনে রোমান শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
পরে তারা নৌকা চুরির অভিযোগ এনে রোমান শেখের হাত গাছের সাথে বেধে ঝুলিয়ে রাখে এবং মারধর করতে থাকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রোমান স্বীকার করে নৌকাটি সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর এলাকায় রয়েছে। এসময় নির্যাতনকারীরা রোমানকে একটি ট্রলারে তুলে শেখরনগরের দিকে রওনা দেয়। সারারাত রোমানের কোন সন্ধান না হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন সকালে খোঁজ করতে আসলে নির্যাতনকারীরা জানায় রোমান ট্রলার থেকে পানিতে লাফ দিয়েছে। তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে রোমানের শাশুরি শ্রীনগর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রোমানকে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতনের একটি ভিডিও গত বুধবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছরিয়ে পরলে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশ। এসময় পুলিশ ট্রলারের মালিক ও মিজানুর, আতিকের বাবা ইব্রাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ইব্রাহিমকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
সোমবার থানায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, রোমানের স্ত্রী সোনিয়া বাকপ্রতিবন্ধী। তার দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। পুলিশ মামলার একজন আসামীকে গ্রেফতার করলেও বাকী আসামীরা এলাকায় বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে অভিযোগ স্বজনদের। রোমানের শ্বাশুরি আসমা বেগম বলেন, ৭দিন হয়ে গেল রোমানের কোন খোজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা ধারনা করছি রোমানকে হত্যা করা হয়েছে। জীবীত অথবা মৃত আমরা রোমানকে ফেরত চাই। পুলিশ আমাদের পক্ষে কাজ করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
