স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা জেলার দোহারের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নারিশা ইউনিয়নের সাতভিটা গ্রাম। এই গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সাতভিটা-নারিশা খালটি দখল আর দূষণের কারণে তার সৌন্দর্য্য হারিয়ে ফেলছে। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে গেছে খালটির দুই পাড়ের অনেক অংশ। ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত বর্জ্য ফেলার কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিপন্ন হয়ে পড়বে এলাকার পরিবেশ।
প্রায় শত বছরের পুরাতন খালটি ছিলো কোন একসময়ে এই এলাকার মানুষের নৌকাযোগে চলাচলের প্রধান পথ। একসময় পানসী নৌকাসহ বড় বড় অনেক নৌকা চলাচল করতো এ খাল দিয়ে। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে খালের স্রোতধারা। এলাকার মানুষের দখল আর দূষণে এটি এখন মরা ভাগারে পরিণত হচ্ছে।
নারিশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাতভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ এলাকার আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং নারিশা, সাতভিটা, চৈতাবাতর ও পল্লীবাজারের হাজারো সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে এই খালের পাশ দিয়ে। দূষিত বর্জ্যের দুর্গন্ধে পথচারীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। খালের পানি পচে পরিবেশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। নাকে রুমাল ব্যবহার ছাড়া কেউ এ পথ দিয়ে চলতে পারে না। দূষিত বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি দখলের উৎসবে নেমেছে এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
সাতভিটা মানব কল্যাণ সংঘের সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার খান বলেন, ঐতিহ্যবাহী সাতভিটা খাল এখন আর ঐতিহ্যবাহী নেই। গুটি কয়েক লোকের কারণে এ ঐতিহ্য আজ বিলীন হওয়ার পথে। যে-যেভাবে পারছে দখল করে নিচ্ছে খালের দুপাড়ের জায়গা আর এর সৌন্দর্য্য নষ্ট করছে নানাভাবে। এলাকার সব ধরনের বর্জ্য ও মলমূত্র ফেলা হচ্ছে খালে। দুর্গন্ধে এ রাস্তা দিয়ে স্বস্তিতে কেউ চলাচল করতে পারছে না।
৯নং সাতভিটা ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মজিদ মোড়ল বলেন, খাল দখল ও দূষণের বিষয়ে নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে কয়েকবার আলোচনা ও সচেতনতামূলক সভা করা হয়। আশাকরি এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মূল খালের দুই পাশ দখল হওয়ায় প্রস্থ্য কমেছে। বিভিন্ন আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খালে। এলাকার অনেক পরিবারের শৌচাগারের সংযোগ খালে দেওয়ায় চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
সাতভিটা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, দখল আর দূষণে খালটি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালটি দূষণ ও দখল মুক্ত করতে না পারলে প্রাণিকূলের উপরও নেমে আসবে এর প্রভাব। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিক।
দীর্ঘদিন যাবৎ এই খালে দখল ও দূষণ চলছে। খালটি পুনরায় খনন এবং দখল বা দূষণমুক্ত করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এটি উদ্ধারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
