“দোহার–নবাবগঞ্জের রাস্তায় তরুণদের প্রতিযোগিতা, থেমে যাচ্ছে জীবন”

লেখকঃ মুহাম্মদ ইয়াসিন মুনিফ

দোহার ও নবাবগঞ্জে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাইক দুর্ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তরুণদের জীবন ঝরে যাচ্ছে এই বেপরোয়া গতির কারণে। বিশেষ করে ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর–তরুণরা এখন বাইকের প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ বোধ করছে, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। সাময়িক আনন্দ বা বন্ধুদের সামনে “হিরো” হওয়ার প্রতিযোগিতায় তারা হারাচ্ছে নিজের ভবিষ্যৎ, আর পরিবার হারাচ্ছে প্রিয় মুখ।

 সমস্যার মূল কারণ

১. অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক: ১৪–১৫ বছরের কিশোররা লাইসেন্স ছাড়াই বাইক চালাচ্ছে, যা আইনি অপরাধ।
২. গার্ডিয়ানদের অবহেলা: অনেক অভিভাবক নিজের সন্তানকে বাইক কিনে দিয়ে বা চাবি হাতে তুলে দিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বিপদ ডেকে আনছেন।
৩. দেখানোর প্রবণতা: “কে দ্রুত চালাবে” ,এই প্রতিযোগিতা এখন সামাজিক রোগে পরিণত হয়েছে।
৪. আইনের প্রতি উদাসীনতা: হেলমেট না পরা, রাস্তায় স্টান্ট বা রেস করা এখন অনেকের কাছে “ফ্যাশন”, অথচ এটি একেকটি মৃত্যু ফাঁদ।

ইসলামের দৃষ্টিতে দায়িত্ব

ইসলাম আমাদের শেখায়,নিজের জীবন ও অন্যের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষা করা ইমানেরই অংশ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:

“নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।”
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৫)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।” (বুখারী ও মুসলিম)

অতএব, রাস্তায় বেপরোয়া বাইক চালিয়ে অন্যের ক্ষতি করা শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, এটি ধর্মীয় দায়ও বটে।

 আমাকরণীয়দের 

১. গার্ডিয়ানদের সচেতনতা:
বাবা-মা বুঝতে হবে, সন্তানের হাতে বাইকের চাবি দেওয়া মানে জীবনের ঝুঁকি হাতে তুলে দেওয়া। তাদের দায়িত্ব সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন করা।

২. বিদ্যালয় ও মসজিদে সচেতনতা বৃদ্ধি:
স্কুল, কলেজ এবং মসজিদে ট্রাফিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা, খুতবা বা সেমিনার আয়োজন করা জরুরি।

৩. প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা:
অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হেলমেটবিহীন চালকদের জরিমানা কার্যকর করতে হবে।

৪. যুবসমাজকে বিকল্প পথে যুক্ত করা:
তরুণদের খেলাধুলা, সামাজিক কাজ, ইসলামি শিক্ষার চর্চা ও ইতিবাচক কার্যক্রমে যুক্ত করা গেলে তারা জীবনের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হবে।

 উপসংহার

একটি মুহূর্তের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত অনেকগুলো প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। দোহার ও নবাবগঞ্জে যদি পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান একসাথে এগিয়ে আসে — তবে এই অকাল মৃত্যু থামানো সম্ভব।
আমাদের সন্তানদের হাতে শুধু বাইকের চাবি নয়, বরং বিবেক, দায়িত্ব ও মানবতার বীজ তুলে দিতে হবে।
কারণ,জীবনের চেয়ে দামি কিছুই নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *