এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী(মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে কামারখাড়া গ্রামে কিস্তির টাকা নিয়ে নিয়ে দ্বন্দে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে অভিযোগ উঠেছে স্বামী আনোয়ার হোসেনের আনু মিজির বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসপাতালে আনা হয়। নিহত ওই নারীর নাম নাজমা বেগম (৪৫)। সে টুঙ্গিবাড়ি উপজেলার কামাড়খাড়া ইউনিয়নের বেসনাল মিজি বাড়ির ঘাতক আনোয়ার হোসেন আনু মিজির দ্বিতীয় স্ত্রী।
জানা গেছে, উপজেলার কামারখাড়া গ্রামের মিজি বাড়ির আনোয়ার হোসেন আনু দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা বেগমকে দিয়ে বিভিন্ন এনজিও হতে অনেক টাকা কিস্তি নেন। এখন ওই সমস্ত এনজিওগুলো কিস্তির টাকা নিতে আসলে নাজমা বেগম তার স্বামী আনোয়ার হোসেন আনু মিজির কাছে টাকা চাইলে সে টাকা না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করে। এ নিয়ে নাজমা বেগম ও আনোয়ারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে কিস্তির টাকা নিয়ে স্ত্রী নাজমা বেগমকে বেধড়ক মারধর করে ঘাতক আনোয়ার। পরে গত ১৬ অক্টোবর এ নিয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নিহত নাজমা বেগম। পরে আজ শুক্রবার ১৮ই অক্টোবর দুপুর সকাল দিকে কিস্তি টাকা দেওয়ার কথা বলে কামারখাড়া কবরস্থানের সামনে স্ত্রী নাজমা বেগমকে ডেকে নেয় ঘাতক স্বামী আনোয়ার হোসেন আনু। পরে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে কবরস্থানে ফেলে পালিয়ে যায় আনু। এই ব্যাপারে নিহতের ছেলে ইব্রাহিম বলেন, আমার সৎ বাবা ও মায়ের সাথে দীর্ঘদিন যাবত কিস্তির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আমার সৎ বাবা নেশা করে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হলে সে বিভিন্ন ব্যাংক হতে নেওয়া কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিল না। আমার সৎ কিস্তির টাকা চাওয়ায় তাকে হাতুড়ি দিয়ে মেরে কবরস্থানে ফেলে চলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিতে ঘোষণা করেন। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. প্রান্ত সর্দার বলেন, ওই নারীকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে তার ছেলে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। টঙ্গীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুহিদূল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
