একজন নেতা ও তার নেতৃত্ব !

“Leadership is an action, not position” ‘নেতৃত্ব’ একটি ছোট শব্দ। তবে এর গভীরতা ও প্রসারতা অনেক বেশি। নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন ও বিকাশ কোনোটাই সহজে হয় না। এজন্য প্রয়োজন হয় ত্যাগ, শ্রম ও অধ্যবসায়। শাব্দিক অর্থে নেতৃত্ব হচ্ছে-To conduct (চালিত করা)To guide (পথ দেখানো)To direct (আদেশ করা) সাধারণ অর্থে নেতৃত্ব হচ্ছে, একজন ব্যক্তি মানুষের নানান গুণাবলীর সমাবেশের মাধ্যমে একটি দলের বা গোষ্ঠীর কিংবা একটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত পরিচালনা। Keith Davis বলেন, The Leadership is the process of influencing group activities towards the accomplishment of the goal in a given situation অর্থাৎ (নেতৃত্ব একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে লক্ষ্য অর্জনের দিকে যৌথ কার্যক্রম প্রভাবিত করার প্রক্রিয়া ) রবার্ট গোলেমবাস্কি বলেন, ‘কাঙ্খিত লক্ষ্যে জনগণকে প্রভাবিত করার যোগ্যতাই হচ্ছে নেতৃত্ব’। মাঝি ছাড়া যেমন নৌকা চলে না তেমনি সঠিক ও পরিচ্ছন্ন গুনগত নেতৃত্ব ছাড়া দেশ, জাতি, সমাজ চলতে পারে না। মানুষের মনের মধ্যে প্রশ্ন আসতে পারে- নেতৃত্ব কি সহজাত না অর্জিত ? আমি মনে করি- নেতৃত্ব হলো বুদ্ধিমত্তা, উন্নত মেধা, প্রজ্ঞা এবং ব্যক্তিত্বের সমন্বয় যা সর্বাধিক ও সর্বশ্রেষ্ঠত্বে পরিণত করার মাধ্যম হিসাবে কাজ করে থাকে। এ গুণ গুলোর অধিকাংশই অর্জন করতে হয়। কিন্তু কেউ যদি বংশগতভাবে এ গুণগুলো নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছে বলে মনে করে, তখনও তাকে সুশিক্ষা এবং কঠোর রীতিনীতির মধ্যেই এ গুণগুলোর চর্চা করেই সফল নেতা হতে হয়। ক্ষমতা পেয়ে তার অপব্যবহার নেতৃত্বের ব্যর্থতই প্রকাশ পায়। একজন সত্যিকারের নেতা জনগণের কল্যাণে কাজ করেন, তবে নেতৃত্ব হল বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বাসযোগ্যতা, মানবিকতা, সাহস, ও শৃঙ্খলাবোধের বিসয়। শুধু বুদ্ধিমত্তার উপর ভরসা করলে বিদ্রোহী মনোভাব দেখা দিতে পারে।

শুধু মানবিকতার ব্যবহার দুর্বলতার জন্ম দেয়। অবিচল বিশ্বাস থেকে দেখা দেয় মূর্খতা। সাহসের শক্তির উপর নির্বরতার রূপ নিতে পারে হিংসার। অতিরিক্ত শৃঙ্খলাবোধ এবং কঠোরতা থেকে জন্ম নিতে পারে নিষ্ঠুরতা। যখন এই পাঁচটি গুণ একত্রিত হয়। প্রতিটি গুণ নিজের কাজের প্রতি যথাযথ হয়, তখনই একজন মানুষ নেতা হয়ে উঠতে পারেন।
“We are all something, but none of us are everything.”

নেতা যদি যোগ্য হন তাহলে তিনি তার জনগোষ্ঠীকে সফলতার সাথে লক্ষ্যপানে নিয়ে যেতে পারেন। সফলতার সাথে যদি আদর্শের সমন্ময় ঘটে তাহলে ঐ নেতৃত্ব হয় মডেল নেতৃত্ব। Elder L. Tom Perry বলেন- Owe live in a world that is crying for righteous leadership based on trust worthy Principles. অর্থাৎ (আমরা বিশ্বাসযোগ্য নীতির উপর ভিত্তি করে ধার্মিক নেতৃত্বের জন্য কাঁদছে এমন একটি জগতে বাস করি) বর্তমান প্রজন্মের এগিয়ে চলার পথে উত্তরসূরীদের আদর্শ এবং নেতৃস্থানীয়দের সঠিক নির্দেশনাই অন্যতম পাথেয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, যোগ্যতম নেতার যথার্থ নেতৃত্বের অভাব। আর এই অভাববোধ থেকেই আমাদের মেধাবী তরুণসমাজ ঝুঁকছে অপকর্মে এবং জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও আত্মঘাতি কর্মকান্ডে।

এখনকার তারুণ্যে সেই তেজ ও ক্ষীপ্রতা দেখা মেলে না। অকালপক্কতার প্রভাব তাদের মননকে তীব্রভাবে কলুষিত করছে। তাদের কাছে ‘বহুমাত্রিক হতাশা’ই যেনো সকল কর্মের অন্তি মফল। তাদের সীমালঙ্ঘন আর বেপরোয়া মতিগতি দেখে বারবার অনুভব করি এক বা একাধিক যোগ্যতম নেতার, নাটক বা সিনেমার নয়, নয় ইতিহাস থেকে তুলে আনা আলেকজান্ডারকে। চাই এই বাস্তব জীবনের ব্যস্ততম প্রজন্মের হাল ধরতে পারার মতো সত্যিকারের নায়ক তথা আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের যে তার মানবদ্যুতি দিয়ে চারপাশের সকল অন্ধকারতম মানবাত্মাকে ঝলসে দেবে। তার ব্যক্তিত্বের প্রেমে পথহারা তারুণ্য পাবে সঠিক দিশা। সুর-ছন্দহীন জীবন থেকে ফিরবে আলোর পথে, সম্ভাবনার সব দ্বার উন্মুক্ত করতে।
এই কথা গুলি মাথায় রেখেই সকলের ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত। করোনা পরিস্থিতিতে দোহারের রাজনীতিতে সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এটাই প্রত্যাশা।

হামিদুর রহমান পলাশ
লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *