স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার কেরানীগঞ্জে তেঘরিয়া ইউনিয়নে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন হাজী মো. জজ মিয়া ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তেঘরিয়া ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মহীন অসহায় মানুষ এবং মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে ঘরে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পেীঁছে দেয়া হচ্ছে।
এ ফাউন্ডেশনের রয়েছে বেশকিছু স্বেচ্চাসেবক কর্মী যারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. রায়হান মিয়ার নেতৃত্বে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত রুটিন মাফিক চাল, আলু, তেল, পিঁয়াজ, লবনসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কর্মহীন পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে প্রত্যেকের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন।
এছাড়া তেঘরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যারা মধ্যবিত্ত শ্রেনীর লোকজন রয়েছে তাদের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পরিবারগুলোর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রায়হান মিয়া নিজেই গোপনে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
মরহুম হাজী মো. জজ মিয়া ছিলেন তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পরপর দুইবার নির্বাচিত জনপ্রিয় সফল চেয়ারম্যান। তিনি গত বছর সৌদি আরবে ওমরা হজ্জ করতে গিয়ে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। হাজী মো. জজ মিয়া ছিলেন দানশীল ব্যক্তি। তিনি অসহায় গরীবদের থেকে শুরু করে সবাইকেই নানাভাবে সাহায্য করতেন। তেঘরিয়া ইউনিয়নে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজসহ এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে হাজী মো. জজ মিয়ার অনুদান নাই।
চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামতসহ অন্যান্য বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে সরকারি অনুদানের জন্য তিনি কখনো বসে থাকতেন না। এসব কাজের বেশিরভাগ তিনি নিজের ব্যক্তিগত অর্থে করতেন। তার মৃত্যুর পর সমাজে তার বাবার বিভিন্ন কৃত-কর্মকান্ড ধরে রাখার জন্য তার যোগ্য সন্তান মো. রায়হান মিয়া পিতার নামে হাজী মো. জজ মিয়া ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এব্যাপারে হাজী মো. জজ মিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. রায়হান মিয়া জানান, তার বাবার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্যই তিনি এ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করেছেন। তিনি করোনা মহামারীর সময় কর্মহীন অসহায় মানুষ ও সমাজের মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়িয়ে তাদের কিছু খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেছেন। যতদিন এই মহামারীর দুর্যোগ শেষ না হবে ততদিন তিনি তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করে যাবেন।
তিনি আরও জানান, তেঘরিয়া ইউনিয়নে তার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো তিনি সমাপ্ত করবেন এবং তার বাবার তেঘরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল সে স্বপ্নকে তিনি বাস্তবায়ন করবেন।
