ঢাকায় করোনার সংক্রমণ ভয়ঙ্কর হারে বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ভয়ঙ্কর হারে দিন দিন বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে ৫৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯ জনই রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

এছাড়া বুধবার (৮ এপ্রিল) পর্যন্ত সারা দেশে ২১৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২৪ জনই রাজধানী ঢাকার। করোনা ভাইরাসের রোগী পাওয়ার পর রাজধানী ঢাকার ৫২টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ১০টি এলাকা লকডাউন করা হয়। এসব এলাকার কেউ এখন বাইরে বের হতে পারবেন না, সেখানে কেউ ঢুকতেও পারবেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে, সেসব এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে।

ডিএমপির তথ্য মতে, রাজধানীতে সংক্রমণের শুরুর দিকে ঢাকায় মিরপুরের টোলারবাগে রোগী পাওয়ার পর ওই এলাকা আগেই লকডাউন করা হয়। এরপর একে একে লকডাউন করা হয় পুরান ঢাকায় খাজে দেওয়ান লেনের ২০০ ভবন, মোহাম্মদপুর এবং আদাবরের ৬টি এলাকা, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে, তাজমহল রোড মিনার মসজিদ এলাকা, রাজিয়া সুলতানা রোড, বাবর রোডের একাংশ, বছিলা ও আদাবর এলাকার কয়েকটি বাড়ি ও রাস্তা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেখানকার একটি রাস্তাও লকডাউন করা হয়।

এছাড়া মহাখালীর আরজত পাড়ার একটি ভবন, বসুন্ধরা এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, বসুন্ধরা ডি ব্লকের রোড-৫, বুয়েট এলাকার একাংশ, ইস্কাটনের দিলু রোডের একাংশ, উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের একটি সড়ক এলাকা, কাজীপাড়ার একটি অংশ, সেন্ট্রাল রোডের কিছু অংশ, সোয়ারীঘাটের কিছু অংশ, মিরপুর-১০-এর ৭ নম্বর রোড, পল্টনের কিছু অংশ, আশকোনার কিছু অংশ, নয়াটোলার একাংশ, সেনপাড়ার একটি অংশ, মীর হাজিরবাগের একাংশ, নন্দীপাড়ার ব্রিজের পাশের এলাকা, মিরপুর সেকশন ১১-এর একটি সড়ক, ধানমন্ডি-৬-এর একটি অংশ, মিরপুর-১৩ ডেসকো কোয়ার্টার, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী, পশ্চিম মানিকনগর, নারিন্দার কিছু এলাকা এবং ইসলামপুরের একাংশ।

এসব এলাকা পুলিশি পাহারায় থাকবে। দিনরাতে কাউকে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এলাকায় সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখা হবে। লকডাউনের আগে কেউ বাসার বাইরে থাকলে তিনি ভেতরে যেতে পারবেন। কিন্তু কেউ বের হতে পারবেন না। কেউ বের হতে চাইলে তাকে অনুমতি নিয়ে বের হতে হবে। সরকারি নানা উদ্যোগের পরও থেমে নেই সংক্রমণ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মহাপরিচালকসহ খ্যাতনামা রোগতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষকে অত্যাবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করছেন। তবুও অনেকে নানা অযুহাতে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরবাসী নিজেকে ঘরে আবদ্ধ রেখে পরিবারের সদস্য ও সর্বোপরি সমাজকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকার করোনা শনাক্ত স্থানগুলো:

হাজারীবাগ-১, উর্দু রোডে-১, বুয়েট এলাকা-১, লালবাগ-৪, ইসলামপুর-২, লক্ষীবাজার-১, নারিন্দা-১, সোয়ারীঘাট-৩, ওয়ারী-৮, কোতোয়ালি-১, বংশাল-১, যাত্রাবাড়ী-৪, আদাবর- ১, মোহাম্মদপুর- ৫, বসিলা-১, ধানমন্ডি-৩, জিগাতলা-১, সেন্ট্রাল রোড-১, গ্রিনরোড-১, শাহবাগ-১, পুরানা পল্টন-২, ইস্কাটন-১, বেইলি রোড-১, মগবাজার-১, বাসাবো-৯, রামপুরা-১, বাড্ডা-১, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা-২, নিকুঞ্জ-১, আশকোনা-১।

এ ছাড়া উত্তরা-৩, গুলশান- ১, মহাখালী-১, কাজীপাড়া-১, মিরপুর ১০ নম্বর- ২, মিরপুর ১১ নম্বর- ২, মিরপুর ১৩ নম্বর-১, মিরপুর ১ নম্বর- ১, শাহ আলীবাগ-২, টোলারবাগ-১, উত্তর টোলারবাগ-৬, পিরেরবাগ-১ জায়গাগুলোতে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *