নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার কৃতী সন্তান মো. রাসেল মোল্লা। ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দলটির পুনর্গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রাসেল মোল্লা ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার পূর্ব লটাখোলা গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা আবুল হাসেম মোল্লা এবং মাতা নুরজাহান বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ছাত্র আন্দোলন থেকে জাতীয় রাজনীতি
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় রাসেল মোল্লার রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলন। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি সম্মুখসারির সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই সময় তিনবার তাঁকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
২০২১ সালের মোদি-বিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২২ সালে শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণসভা ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে তাঁর দেওয়া তথ্যে জানা যায়। ২০২৩ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন। এসব আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার কথাও তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে।
ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে জাতীয় রাজনীতি
রাসেল মোল্লা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা শুরু করেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা, দোহার-নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় আন্দোলন সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। এ সময় তিনি দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ঘটনায় তৎকালীন সরকারের আমলে দায়ের করা তিনটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছিল।
জাতীয় নাগরিক কমিটি ও এনসিপিতে দায়িত্ব
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাসেল মোল্লা জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুব উন্নয়ন সেল, কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া ঢাকা জেলা ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে যুক্ত হন তিনি। দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন সেলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা জেলার সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দায়িত্ব পেয়ে যা বললেন মো:রাসেল মোল্লা
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মো:রাসেল মোল্লা বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির সমবায় ও পল্লীউন্নয়ন সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় প্রথমেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির সংগ্রামী আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বিপ্লবী সদস্যসচিব আখতার হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তা আমানত হিসেবে গ্রহণ করছি। আমি নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।”
তিনি আরও ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দোহার ও নবাবগঞ্জবাসী পাশে আছেন বলেই আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। বাকি জীবন আমি দোহার ও নবাবগঞ্জবাসীর সেবক হিসেবে পাশে থাকতে চাই।” তাঁর প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, গ্রামীণ উন্নয়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
