তজুমদ্দিনে জমি নিয়ে বিরোধ, অসহায়দের সরকারি সুবিধার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি: সংখ্যালঘু পরিচয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড গোলকপুর গ্রামে ৪২ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিকাশ শীলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জমির মালিকানা দাবি, সুপারি পাড়তে বাধা প্রদান এবং স্থানীয় শালিসের সিদ্ধান্ত না মানার অভিযোগ তুলেছেন মো. সোহেল (৩৯) নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগকারী মো. সোহেল গোলকপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর ইসলাম ইপিআরের ছেলে। সোহেলের দাবি, তাঁর প্রয়াত বোন নাজমা বেগম ও বোনের স্বামী নুরুল ইসলাম প্রায় ৩৩ বছর আগে উপেন্দ্রনাথ শীল গংয়ের কাছ থেকে ৪২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমির বৈধ দলিল তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সোহেলের অভিযোগ, সম্প্রতি বিকাশ শীল গং ওই জমির ৩৭ শতাংশ নিজেদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। জমিতে থাকা সুপারি পাড়তে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোহেল জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে শালিস অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে শালিসকারীরা ২৭ শতাংশ জমি মেপে বুঝিয়ে দেন। পরদিন বাকি ১০ শতাংশ জমি মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও বিকাশ শীল গং শালিসে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেন সোহেল। এ ঘটনায় সোহেল তজুমদ্দিন থানায় অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তজুমদ্দিন থানার ওসি মিজানুর রহমানের নির্দেশে এসআই রায়হান ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাঁকে থানায় যাওয়ার কথা বলা হলেও বিকাশ শীল গং থানায় হাজির হননি বলে দাবি করেন তিনি। সোহেলের আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তিনি এ অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় অনেকের দাবি, বিকাশ বিএনপি নেতা পরিচয় সরকারি সুবিধা দেয়ার নামে তাদের থেকে টাকা নিয়েছে এবং অনেকের ক্ষতিও করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা তাঁদের বাড়িতে গেলে তাঁরা বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্তরা হলেন—বিকাশ শীল, করুণা শীল, অঞ্জলি শীল, কাকলী শীল, সুনীল শীল, জওহরলাল শীল, সুমন শীল ও জুয়েল শীল। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, শালিসের সিদ্ধান্ত এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আইনানুগ সমাধানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *