দোহারে পুলিশ চেকপোস্ট কী শুধুই মোটরসাইকেলের জন্য? -প্রশ্ন স্থানীয়দের

ঢাকার দোহার উপজেলার বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল চালকদের হয়রানি এবং কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

একই সময়ে এসব সড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে একই ধরনের তল্লাশি দেখা যায় না বলেও দাবি তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বাসতলা পয়েন্ট, থানার মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সড়কে যদি যানবাহনের কাগজপত্র ও আইন মেনে চলাচল নিশ্চিত করতেই চেকপোস্ট বসানো হয়, তাহলে শুধু মোটরসাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রেই কেন বেশি তল্লাশি করা হচ্ছে? অন্যান্য যানবাহনও তো একই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে এক বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, দোহারের সড়কে কি শুধু মোটরসাইকেলই চলাচল করে? পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বসে মোটরসাইকেল চালকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, গ্রামের সড়কে চলাচলের সময় সাধারণ মানুষ সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে চলেন কি না, এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চালকদের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ পোস্টদাতা প্রকাশ করেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান অভিযোগ করে জানান, আমার নতুন গাড়ি। কিছুদিন আগে কেনা হয়েছে। যার শোরুম পেপারস রয়েছে। এবং বিআরটিএর কাগজ করতে দিয়েছি। আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে, হেলমেট ছিলো, সব বলার পরেও  আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সড়কে আইন প্রয়োগ হবে, সেটিই স্বাভাবিক, কিন্তু আইন প্রয়োগের নামে হয়রানি বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলে তার প্রতিকার করবে কে?

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম হোসেন জানান, কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও মাঝে মধ্যেই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, সড়কে আইনশৃঙ্খলা ও যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেটি যেন হয়রানি বা অনিয়মের কারণ না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সড়কে তাদের থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয়। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে যানবাহন তল্লাশির দাবি তাদের।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, এটি ট্রাফিক পুলিশের আওতাধীন। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বাইকসহ সব ধরনের গাড়ি চেক করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *