শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু আগামী ২০ এপ্রিল

আগামী ২০ এপ্রিল (সোমবার) সারা দেশের ন্যায় দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাতে শুরু হচ্ছে সরকারি উদ্যোগে জরুরি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন। যদিও গত ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার সকাল ৯টা থেকে সরকারি উদ্যোগে প্রথম ধাপে ১৮ টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়। দেশব্যাপী হামের সংক্রামণ বৃদ্ধিপাওয়ায় এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (সর্বোচ্চ ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন পর্যন্ত ) সকল শিশুকে ১ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করবে। আপনার নিকটবর্তী ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করে শিশুকে ১ ডোজ হামের টিকা নিশ্চিত করুন।
টিকা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর:
১.আমার বাচ্চাকে কি চলমান হামের টিকা ক্যাম্পেইন টিকা দিবো?
উ: আপনার বাচ্চার বয়স যদি ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (সর্বোচ্চ ৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন পর্যন্ত ) তাহলে অবশই দিবেন।
২.আমার বাচ্চার ৯ মাসে ও ১৫ মাসে দুই ডোজ টিকা দেওয়া আছে তাহলে কি আমার বাচ্চা আবার টিকা পাবে?
উ: হ্যাঁ পাবে। কোনো অসুবিধা নেই । ৬০ বছর ধরে এই টিকা সারা পৃথিবীতে চলছে এবং এটি নিরাপদ টিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ।
৩.আমার বাচ্চার ৯ মাসে প্রথম ডোজ পেয়েছে , এখন ১১ মাস । ১৫ মাসে ২য় ডোজ পাবার কথা ।তাকে কি এখন টিকা দেব?
উ: হ্যাঁ দেবেন, ১১ মাসে এখন টিকা দেবেন , ১৫ মাসের টা ১৫ মাসে থাকবে আগের মতই। কারন, এখন সারাদেশে হামের আউটব্রেক চলছে । এই সময়ে আক্রান্তের সম্ভাবনা বেশি থাকে । তাই এটি নিয়মিত ডোজের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডোজ হিসেবে দেয়া হচ্ছে।
৪.আমার বাচ্চা ৮ মাস ১০দিনে টিকা নিয়েছে ।পরের ডোজ কি ৯ মাসে নেবে।
উ: একটি কথা মনে রাখতে হবে দুটি টিকার ডোজের মাঝে ব্যবধান থাকতে হবে ২৮ দিন । যেমন কেউ ৮ মাস ১০ দিনে বা ২০ দিনে টিকা দিলে তার পরের ডোজ ৯ মাসে হবে না ,তার কিছুদিন পরে হবে। নুন্যতম ২৮ দিন হিসাবে করে।
৫.ব্লাড ট্রান্সফিউশন এর ক্ষেত্রে টিকা নেয়া যাবে ?
উ: কেউ যদি ব্লাড ট্রান্সফিউশন প্লেটিলেট /প্লাজমা ইত্যাদি দিল স্বাভাবিক নিয়মে টিকাদান এর সময় কিছুটা পেছানো হয় । কিন্ত আউটব্রেক পরিস্থিতিতে এটিও শিথিল । অর্থাৎ ব্লাড প্রোডাক্ট ট্রান্সফিউশনের কারনে টিকাদান দেরি করা যাবে না।
৬.বাচ্চা স্টেরয়েড পাচ্ছে কিংবা কেমোথেরাপি নিচ্ছে, তারা টিকা নিতে পারবে?
উ: কোনো বাচ্চা স্টেরয়েড পাচ্ছে কিংবা কেমোথেরাপি নিলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এর সরাসরি পরামর্শ মেনে টিকা নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৭.বাচ্চার জ্বর/সর্দি কাশি সেক্ষেএে টিকা নিতে পারবে কি?
উ: অল্প জ্বর বা সর্দি কাশি হলে নিতে পারবে । কিন্ত অনেক জ¦র ,হাসপাতালে ভর্তি হবার মত অসুস্থ থাকলে বা এই মুহুতে শরীরে হাম থাকলে এই টিকা নেয়া যাবে না
মিজেলস তথা হামের টিকা অন্ত্যন্ত নিরাপদ। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই সামান্য । অন্যান্য টিকার মতই কোনো কোনো বাচ্চার এই টিকা নেবার পরে টিকাদানের স্থানে হালকা ফুলে যেতে পারে , ব্যথা হতে পারে ,হালকা জ্বর আসতে পারে, শরীরের কোথাও কোথাও রেশ হতে পারে, এগুলো মিজেলস ভ্যাকসিনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া । হামের জন্য সুনিদিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসকেরা আক্রান্ত রোগীকে ভিটামিন এ দেন হামের প্রভাব থেকে চোখ রক্ষা করতে, নিউমোনিয়া থেকে সুরক্ষা বাড়াতে। সুতরাং সবচেয়ে বিচক্ষণ কাজ হচ্ছে টিকা দেয়া । আপনার বাচ্চার বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর হলে অবশ্যই চলমান ক্যাম্পেইনে টিকা দেবেন আগে বা পরের নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে। এতে আপনার বাচ্চা যেমন সুরক্ষা পাবে তেমনি হার্ড ইমিউনিটি বৃদ্ধিও কারনে সারাদেশের সকল বাচ্চা সুরক্ষা বলয়ে চলে আসবে।

লেখক: শামীম মাহমুদ সবুজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *