যেদিন ব্রাজিলের সমান হলো অস্ট্রেলিয়া

ঐতিহ্যগতভাবেই দুই দলের জার্সির রং এক। সাফল্যের দিক থেকেও এখন সমানে সমান দুই দেশ। তবে ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্তও অস্ট্রেলিয়ার এক ধাপ এগিয়ে ছিলো ব্রাজিল। কিন্তু আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে, ২৯ মার্চ তারিখেই ব্রাজিলের সমকক্ষ হয় অস্ট্রেলিয়া।

সেটা কীভাবে? উত্তর হলো- বিশ্বকাপ জয়ের হিসেবে। খেলাধুলায় সেরার তকমা দিতে প্রায়ই বলা হয়, ‘ফুটবলের ব্রাজিল’ কিংবা ‘ক্রিকেটের অস্ট্রেলিয়া’। এর কারণ দুই দেশই নিজেদের খেলায় ছাড়িয়ে গেছে সবাইকে, বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে সমান পাঁচবার করে।

১৯৩০ সালে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের পঞ্চম শিরোপা জিততে ব্রাজিলকে খেলতে হয়েছে ২০০২ সালের ১৯তম আসর পর্যন্ত। এত বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে, তারা পঞ্চম শিরোপা জিতেছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১১তম আসরেই। আর তাদের পঞ্চম শিরোপাটি এসেছিল আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে।

সে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে ঐতিহাসিক মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ডকে স্রেফ উড়িয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করে কিউইরা অলআউট হয় মাত্র ১৮৩ রানে। জবাবে ১০১ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের সহজ পায় অসিরা।

এমসিজির ৯৩ হাজার দর্শকের সামনে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের বিপক্ষে কোনো জবাবই খুঁজে পায়নি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম সাজঘরে ফেরেন প্রথম ওভারেই।

আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মার্টিন গাপটিল করেন মাত্র ১৫ রান, কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১২। অধিনায়কের মতোই রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন কোরি অ্যান্ডারসন, লুক রঙ্কি, ম্যাট হেনরিরা।

তবু কিউইরা দুইশ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ পায় সেমিফাইনালের নায়ক গ্র্যান্ট এলিয়ট ও অভিজ্ঞ রস টেলরের ব্যাটে ভর করে। দুজনের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ১১১ রান। এর আগে-পরে পুরোটাই ছিলো ব্যর্থতার গল্প। এলিয়ট খেলেন ৮২ রানের ইনিংস, টেলর করেন ৪০ রান।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন মিচেল জনসন এবং জেমস ফকনার। এছাড়া বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া মিচেল স্টার্ক নেন ২ উইকেট।

মাত্র ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তেমন কোনো ঝামেলাই হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ডানহাতি ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ০ রানে ফিরলেও বেশ ভালোভাবেই সামাল দেন ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ এবং অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক।

নিজের বিদায়ী ওয়ানডেতে দলকে বিশ্বকাপ জেতানো ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন অসি অধিনায়ক ক্লার্ক। এছাড়া ওয়ার্নার আউট হন ৪৫ রান করে। দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন ৫৬ রান করা স্টিভেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়া পায় ওয়ানডে বিশ্বকাপের পঞ্চম শিরোপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *