কেরানীগঞ্জে গৃহ শিক্ষিকার হাতে মা-মেয়ে নৃশংসভাবে খুন : দুই ঘাতক গ্রেফতার

মো. আব্দুল গনি, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)  প্রতিনিধি : কেরানীগঞ্জে এবার গৃহ শিক্ষিকার হাতে মা ও মেয়ে নিশংসভাবে খুন হয়েছে। নিহতরা হলেন ছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও মা রোকেয়া রহমান (৩২)। এই ঘটনায় ঘাতক গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার (২৩)ও তার ছোট বোন নুসরাত নুরজাহান কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ ডায়াবেটিস বাজার এলাকায় জৈনক শামীম আহমেদের পাঁচতলার বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে।

মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গৃহ শিক্ষিকা মিম আক্তার ও নিহতরা পূর্বে গোপফার এলাকায় একই বাড়িতে পাশাপাশি ফ্লাটে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সে সময় তাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে নিহত রোকেয়া রহমানকে জামিনদার করে গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার একটি এনজিও থেকে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরে গৃহ শিক্ষিকা এই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বিলম্ব হওয়ায় এনজিও কর্মকর্তারা রোকেয়া রহমানকে চাপ সৃষ্টি করে। এই ঋণের টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতা গৃহ শিক্ষিকা মিম আক্তার ও তার বোন নুসরাত নুরজাহানের সাথে রোকেয়া রহমানের প্রায় ঝগড়াঝাঁটি হত। গত দুই মাস পূর্বে গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার বাসা ছেড়ে দিয়ে মুক্তিরবাগ ডায়াবেটিস বাজার এলাকায় শামীমের বাসায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে আসেন। গত ২৫ ডিসেম্বর নিহত ছাত্রী জোবাইদা রহমান ফাতেমা গৃহ শিক্ষিকা মিমের বাসায় প্রাইভেট পড়তে আসে।

এ সময় পূর্বের ঝগড়ার সূত্র ধরে গৃহ শিক্ষিকা মিম আক্তার ও তার ছোট বোন নুসরাত নুরজাহান মিলে ছাত্রী জুবাইদা রহমান ফাতেমাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে লাশটি গুম করার জন্য তাদের ফ্ল্যাটের ফল ছাদের উপর লুকিয়ে রাখে। ঐদিন ঘাতকরা ছাত্রী ফাতেমার মা রোকেয়া রহমানকে কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের ফ্ল্যাটে ডেকে আনেন। কোন কিছু বোঝার আগেই ঘাতকরা রোকেয়া রহমানকে একই কায়দায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে খুন করে তাদের খাটের নিচে রেখে দেয়। এদিকে এই ঘটনায় রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহিন আহমেদ গত ২৫ ডিসেম্বর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।

পরে তিনি একই থানায় ৬ জানুয়ারি বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু থানা পুলিশ অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কোন কুল কিনারা করতে পারেননি । অপরদিকে ঘাতকরা লাশ দুইটি তাদের ঘরে রেখেই দীর্ঘ ২৫ দিন স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বসবাস করেছে। দুর্গন্ধ এড়াতে ঘাতকরা ফ্ল্যাটে এয়ার ফ্রেশনার ছিটিয়েও দুর্গন্ধ দূর করতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক শামীম আহমেদ ট্রিপল নাইনে ফোন দেন। এই ফোনের সূত্র ধরে মডেল থানা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন এর লোকজন ও পিপবআই পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে ঘাতকদের ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় এবং তল্লাশি করে ফ্ল্যাটের ভিতরে একটি ফল ছাদের উপর থেকে মেয়ের এবং খাটের নিচ থেকে মায়ের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ঘাতকদের বিরুদ্ধে আজ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহিন আহমেদ।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘাতকরা অনেক দ্রুত প্রকৃতির ও কৌশলী। তাদের সনাক্ত করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। অবশেষে তাদের গ্রেফতার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *