নবাবগঞ্জের দৌলতপুরে ধলেশ্বরী নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

দোহার-নবাবগঞ্জ(ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার নবাবগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরে কৈলাইল ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকায় স্থানীয় উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ২০টির বেশি নৌকা অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ‘ শেখ খোকন’ মামা-ভাগিনা’ কৈলাইল তুফান’ ‘মেইল’ ছিল অন্যতম।শেখ খোকন প্রথম স্থান লাভ করে বিজয়ী হয়। নৌকা বাইচে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এবং প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেন। নদীর তীরে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক প্রতিটি দৌড় উপভোগ করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। নৌকা বাইচের মাধ্যমে কেবল ক্রীড়ারই প্রচার হয় না, বরং স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জীবিত থাকে।
নৌকা বাইচে মোট ১০ টিরও বেশি নৌকা অংশগ্রহণ করে। নদীর স্্েরাত ও প্রতিযোগিতার চাপ মোকাবিলা করতে গিয়ে নৌকার মাঝির দক্ষতা এবং দলের সমন্বয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি দৌড়ে নদীর স্রোত, হাওয়ার দমকা এবং মাল্লাদের চিৎকার মিলিয়ে একটি অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, এই নৌকা বাইচ প্রায় দুই শতকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। প্রথমদিকে এটি ছিল নদীচালনার দক্ষতা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। পরে এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়। নৌকা বাইচের সময় দর্শকরা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোররা উৎসাহের সঙ্গে নৌকা বাইচের খেলা দেখেন এবং ভবিষ্যতে অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখান। নৌকা বাইচ বিকেল পর্যন্ত চলে। নদীর তীরে থাকা মানুষ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লেও উৎসবমূখর পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হয়। ধলেশ্বরী নদীর তীরে এই নৌকা বাইচ স্থানীয় সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কমিউনিটির ঐক্যের চিরস্থায়ী উদাহরণ হয়ে থাকবে।
নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু শফিক খন্দকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম। উদ্বোধক ছিলেন ঢাকা জেলা দক্ষিন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম নিরব।
প্রধান অতিথি আবু শফিক খন্দকার বলেন, “ নৌকা বাইচ আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্য ও কৃষ্টি ধরে রাখে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও এটি নিয়মিত ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।”
সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের কমিউনিটির ঐতিহ্য ও একতা প্রদর্শনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। স্থানীয় এবং প্রবাসী মানুষদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন আরও সমৃদ্ধ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *