নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আরিফ গং এবং মনির ও শেখ জাহেদুল গংয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে আরিফ গং ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গেলে শেখ মনির ও জাহেদুল গংরা বাধা দিলে সহিংস রূপ নেয়।
শেখ মনির ও জাহেদুল গংয়ের পক্ষে রুপা আক্তার (৩২) জানান, সকালে আরিফ, শাওনসহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা একটি ভেকু মেশিন দিয়ে বাড়ির সিমানা টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। এ হামলায় আমার বড় জা শম্পা (৪০) ও আমার মেয়ে আহত হন। তিনি আরও জানান, জমিটি তাদের দাদা শ্বশুর ও শ্বশুর ক্রয় সূত্রে মালিক।
অন্যদিকে, আরিফ হোসেন বলেন,গত বছরের ১৬ রমজান থেকে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলা ও জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত। বিষয়টি সাংবাদিক, গণমাধ্যম এবং প্রশাসন জানেন। তিনি জানান, ২৬ রমজানে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল ও সমালোচিত হয়।
তাঁর দাবি, সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ব্যাপারী, স্থানীয় বিএনপি নেতা জলিল সওদাগর, আব্দুল করিম বেপারিসহ স্থানীয় সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা জমি পুনরুদ্ধারে গেলে আজ সকালে কাদের খার ছেলে করিম, শেখ মনিরের স্ত্রী ও তার মেয়ে, আজিজুলের স্ত্রী আমার খালা আমেনাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরিফ হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার একটি পা নেই, আমি কীভাবে ডাকাতি করব, আমি অটো চালাই। মামলাটি কোর্টে খারিজ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
