✍লেখকঃ মুফতি আনোয়ার শাহ: নবিপ্রেমই খোদাপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কুরআন কারিমে ঈঙ্গিত দিয়েছেন, আমাকে কেউ ভালোবাসতে চাইলে কিংবা আমার ভালোবাসা পেতে চাইলে, সে যেন আমার হাবিবের আনুগত্য করে।
নবি সা. ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে বেশি প্রিয় হব না, তার পিতামাতা, সন্তান-সন্ততি, দুনিয়ার সকল মানুষ ও সবকিছুর চেয়ে।
কুরআন কারিম ও হাদিসে নবি সা. থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পৃথিবীতে কোনো ব্যক্তি যত বড় নামাজি, হাজি, রোজাদার, দানবীর হোক না কেন; যদি তার অন্তরে নবিপ্রেম ও নবীর আনুগত্য স্থান না পায়, তাহলে তার ওই সব ইবাদত, নামাজ-রোজার কোনো মূল্য নেই। কারণ, পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার জন্য যেমন নবিপ্রেম পূর্বশর্ত, তেমনিভাবে ইবাদত কবুল হওয়ার সুন্নাতে নববির অনুসরণ অন্যতম প্রধান শর্ত।
নবি সা. এর প্রতি ভালোবাসা কেমন হওয়া চাই, তার প্রমাণ মিলে ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রাযি. এর জীবনী থেকে। একদা উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রাযি. এর প্রশ্নের জবাবে নবি সা. বলেন,আকাশের নক্ষত্রসংখ্যার চেয়েও বেশি আমল করেছে ওমর বিন খাত্তাব রাজি.। কিন্তু ওমরের এ ইবাদতের চেয়েও তোমার পিতা আবু বকরের এক রাতের ইবাদত শ্রেষ্ঠ।
হাদিসের ব্যাখ্যাদাতাগণ বলেন, আবু বকরের এক রাতের ইবাদত দ্বারা এখানে হিজরএখানে হিজরতের রাত, যে রাতে তিনি নিবেদিতপ্রাণ হয়ে আল্লাহর রাসুলকে সঙ্গ দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন হল, এমন কী আমল তিনি করেছিলেন সে রাতে? কিংবা কত হাজার রাকাত নামাজ পড়েছিলেন? আর কীইবা দান-সদাকা করেছিলেন? না, তিনি এমন কিছুই করেননি। তিনি শুধু নিজের প্রাণের চেয়ে অনেক বেশি ভালোবেসেছিলেন আল্লাহর নবি সা. কে।
এখান থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, নবিপ্রেমই ইবাদতের মূল। স্মর্তব্য, কেবল নবির প্রতি মুহব্বত দাবি করে আমল ছেড়ে দিলাম, তা মোটেই হতে পারে না। আশিকে রাসুল উপাধি গ্রহণ করে নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদত করতে হবে না,এমন ফতোয়া আজ পর্যন্ত কেউ দেয়নি।সুতরাং আমল ছাড়া নবিপ্রেম দাবি প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই ঈমানের দাবি নিয়ে আল্লাহর রাসুলকে প্রকৃতভাবে ভালোবাসতে হবে এবং প্রিয় নবির প্রতিটি সুন্নাহকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবেসে আঁকড়ে ধরতে হবে, অনুসরণ করতে হবে; তবেই হব প্রকৃত মুমিন-মুসলমান।
আল্লাহ আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে নবিপ্রেমিক হিসেবে কবুল করুন।
আমীন
