বৈষম্যের অবসান চাই: দোহার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলাকে পৃথক দু’টো সংসদীয় আসন হিসেবে পূণ:বহাল চাই

এডভোকেট মনির হোসেন রানা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে গত ৩০ জুলাই,২০২৫ তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পূণ:নির্ধারন করে একটা নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এর দফা (১) এর উপ-দফা (গ) এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন,২০২১ এর ৮ ধারার উপ-ধারা (১) (খ) অনুযায়ী নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিয়া কমিশন আইনের ৬ ধারার উপ-ধারা (৩) মোতাবেক সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে লিখিত দাবী/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত আহবান করিয়া আগামী ১০ আগস্ট,২০২৫ এর মধ্যে লিখিত দরখাস্ত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জমা দিতে অনুরোধ করেছেন। উক্ত আপত্তি সমূহের উপর গণ-শুনানী শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারল করিয়া চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করবে।

দোহার ও নবাবগঞ্জ এলাকার জনগণের দাবীর যুক্তিকতা এবং আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ তুলে ধরছি।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৮ বার দোহার-নবাবগঞ্জবাসী ২ জন করে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে জাতীয় সংসদে পাঠিয়ে নিজ এলাকার কথা তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে পেরেছেন। ২০০১ পরবর্তি সময়ে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ভিনদেশী গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ চক্রান্তে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন যোগ-বিয়োগের গানিতিক জটিল ফর্মূলায় বিএনপি অধ্যুষিত অনেক গুলো সংসদীয় আসনকে কাঁটাছিড়া করে দোহার ও নবাবগঞ্জের ২টি সংসদীয় আসনকে এক করে একটি আসনে পরিণিত করে। আমাদের দাবী পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া আনা।নতুন কোনো আসন সৃষ্টি নয়।

দেখে নেয়া যাক দোহার-নবাবগঞ্জের ভৌগলিক সীমানা, জনসংখ্যা ও অবকাঠামগত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

নবাবগঞ্জ উপজেলার মোট আয়তন ২৪৪.৮০ বর্গ কিলোমিটার , মোট গ্রাম ৩৪২টি। পদ্মা, ইছামতি, ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গা নদী দ্বারা বিভক্ত একটা জনপথ। উত্তরে মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলা, দক্ষিণে দোহার উপজেলা, পূর্বের একদিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান অন্য অংশে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলা, পশ্চিমে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর এবং কিছু অংশে মানিকগঞ্জের সদর উপজেলা। এমন একটা উজেলার একপ্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে একদিনে গণ-সংযোগ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার বটে।

দোহার উপজেলা এতোটা জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে না থাকলেও পদ্মা নদীর চরপাড় হয়ে ফরিদপুর জেলার চর ভদ্রাসন উপজেলার সাথে লাগোয়া চরেও দোহারের বসতি বিদ্যমান। এছাড়াও দোহার পৌরসভা ১ম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে একটা পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট।দোহারে মোট গ্রামের সংখ্যা ১৩৯টি।অর্থাৎ নির্বাচনি এলাকায় মোট গ্রাম ৪৮১টি। বর্তমান বিদ্যমান অবস্থায় নির্বাচনি এলাকার পশ্চিম কোনা হতে পূর্ব কোনার দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার।এমন একটা বৃহৎ এলাকা ১টি নির্বাচনি এলাকা হতে পারে না।

এবার আইনের দিকে নজর দেয়া যাক।

আইনের ৬ ধারার উপ-ধারা (২) এ বলা আছে ”বাস্তব বন্টনের ভিত্তিতে করিতে হইবে।” অর্থাৎ সংসদীয় আসনের সীমানা বাস্তবতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করিতে হইবে। আমরা এই বাস্তব বন্টনের ভিত্তিতে দীর্ঘকাল যাবৎ পৃথক ২টি সংসদীয় আসন হিসেবে বিদ্যমান ছিলাম। এখনও এটাই দাবী।

লেখক:  আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীট কোর্ট।
 সভাপতি, প্রবাসী কল্যাণ আইনজীবী সমিতি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *