নবীদের প্রতি কিতাব এসেছে মাতৃভাষায়

লেখক : মুহম্মাদ জিয়াউদ্দিন, ইসলামবিষয়ক গবেষক।

দুনিয়ার কোনো ভাষাকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহ সব ভাষার স্রষ্টা। আল্লাহ সব ভাষাই জানেন এবং যে ভাষায় তাঁকে ডাকা হোক না কেন তিনি বোঝেন। দুনিয়ায় যে শত শত ভাষা রয়েছে তা আল্লাহর বিশেষ কুদরত। 

হজরত আদম (আ.) ছাড়া অন্য সব নবী-রাসুলের প্রতি আল্লাহর প্রত্যাদেশ বা আসমানি কিতাব নাজিল হয়েছে তাঁদের মাতৃভাষায়। ভাষাবৈচিত্র্যের এ অপার মহিমার প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা রুমের ২২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে অবশ্যই জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।’

বাংলা দুনিয়ার অন্যতম ভাষা এবং অন্য সব ভাষার মতো এ ভাষাও মহান আল্লাহর দান। বাংলা যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা সেহেতু এ ভাষার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ থাকতে হবে। মাতৃভাষাকে ভালোবাসা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অনুসরণীয়। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ করতেন। বিশুদ্ধভাবে মাতৃভাষা আরবি চর্চায় তিনি ছিলেন সবার চেয়ে এগিয়ে। 

আল কোরআন মাতৃভাষার মর্যাদাকে মহিমান্বিত করেছে। সূরা ইবরাহিমের ১৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সব নবীকে তাঁদের স্বজাতির ভাষায় পাঠানোর কথা বলেছেন; যাতে তাঁরা আল্লাহর কথা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। মিশকাতের হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবিভাষী হিসেবে যে গর্ববোধ করতেন তা স্পষ্ট করা হয়েছে। 

আরবি ভাষা কোরআনের ভাষা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে যেসব নবী-রসুলের কাছে আল্লাহর ওহি প্রেরিত হয়েছে তাও পাঠানো হয়েছে তাঁদের মাতৃভাষায়। হজরত মুসা (আ.)-এর ওপর নাজিল হয়েছিল আসমানি কিতাব তাওরাত হিব্রু ভাষায়। হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর নাজিলকৃত জবুর ছিল ইউনানি ভাষায়। হজরত ইসা (আ.)-এর ওপর নাজিলকৃত ইনজিলের ভাষা ছিল সুরিয়ানি। 

আমরা আখেরি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত। তাঁর ওপর নাজিলকৃত কোরআনের ভাষা হিসেবে আরবি ভাষা দুনিয়ার সব মুসলমানের কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহর ইবাদতের জন্য মুসলমান হিসেবে আমরা আরবি ভাষার মুখাপেক্ষী হতে বাধ্য। 

একইভাবে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনে মাতৃভাষা বাংলার বাইরেও যে কোনো ভাষা শিক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। দুনিয়ার সব ভাষা যেহেতু আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁর মহান নিয়ামত সেহেতু কোনো ভাষাকে অবজ্ঞা করার অবকাশ নেই। আল্লাহ আমাদের মাতৃভাষার চর্চাসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা ও চর্চার তৌফিক দান করুন।      

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *