কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া থেকে অপহৃত শিশু জান্নাত (৭)কে ফেনী থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব-১০সূত্রে জানা যায় মডেল থানার এলাকায় বসবাসকারী সাজিয়া আক্তার (২৯), তার পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছে। সাজিয়ার শিশু কন্যা জান্নাত খোলামোড়াস্থ খাতুনে জান্নাত মাদ্রাসায় প্লে শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। গত ৮নভেম্বর দুপুরে সাজিয়ার মেয়ে জান্নাত তাদের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় খেলাধূলা করতেছিল। ঐ দিন দুপুর ৩টায় জান্নাত ঘরে ফিরে না আসলে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে একই তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিল্লাল নামে এক ব্যাক্তি ভিকটিম জান্নাতের মা সাজিয়াকে ফোন করে জানায় যে, সে জান্নাতকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে এবং ভিকটিম জান্নাত তার কাছে আছে। সে আরও জানায় ভিকটিম জান্নাতকে জীবিত পেতে হলে মুক্তিপণ বাবদ নগদ এক লক্ষ টাকা অপহরণকারী বিল্লালকে দিতে হবে নতুবা সে জান্নাতকে প্রাণে মেরে ফেলবে। পরবর্তীতে সাজিয়া মেয়ের জীবনের কথা চিন্তা করে অপহরণকারী বিল্লালকে বিকাশের মাধ্যমে দশ হাজার) টাকা প্রেরণ করে। টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারী বিল্লাল নব্বই হাজার টাকার জন্য ভিকটিম জান্নাতের মা সাজিয়াকে হুমকি প্রদান করতে থাকে। এরপর সাজিয়া তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে গত ১০নভেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় বিল্লাল মিয়া এবং অজ্ঞাত আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন । এই মামলার সূত্র ধরে ১০ নভেম্বর বিকেল তিনটায় র্যাব-১০ এর উক্ত আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও র্যাব-০৭ এর সহায়তায় ফেনী জেলার ফেনী মডেল থানার ফেনী পৌরসভার মধ্যম রামপুরস্থ চট্টগ্রাম হইতে ঢাকাগামী মহাসড়কের বাম পার্শে পুলিশ অফিসার্স মেসের সামনের এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে উক্ত অপহৃত জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়। পরে অপহরণকারী বিল্লাল মিয়াকে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি থানার উত্তর গোজাকুড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার কের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল শিশু ভিকটিম জান্নাতকে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে ঘটনাস্থলের একটি বাসা হতে অক্ষত অবস্থায় শিশু ভিকটিম জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
