নিরীহ ছাত্র হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সিরাজ চেয়ারম্যান র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার বংশালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সিরাজ চেয়ারম্যান অবশেষে র‍্যাব-১০এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। র‍্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ রাজধানী ঢাকার বংশাল থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে কোটা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করা কালে বেশ কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, রাম-দা, চাপাতি, হকি স্টিক এবং লাঠি-সোটাসহ বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর এলোপাথাড়ি আক্রমণ করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এছাড়াও ছাত্র-জনতার যৌক্তিক কোটা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ একাধিক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও গুজব রটায় এবং তাদেরকে গুম ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। যার অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার বাদামতলী ও বংশাল এলাকায় ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের জন্য আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের অর্থের যোগানদাতা ও একজন নিরীহ ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে ভিকটিমের পরিবার কর্তৃক বংশাল থানায় বাদামতলী ফল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রধান সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ চেয়ারম্যানসহ শতাধিক আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে আসামী সিরাজসহ অন্যান্য আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায়। উক্ত ঘটনায় বংশাল থানা পুলিশ কর্তৃক প্রাপ্ত অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল উল্লেখিত ঘটনায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন দমনে আক্রমনকারীদের অর্থের যোগানদাতা এবং বংশাল এলাকায় আন্দোলনরত একজন নিরীহ ছাত্রকে হত্যাকান্ডে জড়িত সিরাজসহ অন্যান্য আসামীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর আনুমানিক ৬টায় র‌্যাব-১০ এর উক্ত আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় *রাজধানীর বংশাল থানাধীন সিদ্দিক মার্কেট এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে রাজধানীর বংশাল এলাকায় আন্দোলনরত একজন নিরীহ ছাত্রকে হত্যাকান্ডে জড়িত বাদামতলী ফল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রধান মোঃ সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ চেয়ারম্যান (৬৫) কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী উল্লেখিত ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্তার সত্যতা স্বীকার করেছে। এছাড়াও রাজধানীর বংশাল এবং সাতক্ষীরা সদর থানায় তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *