সিরাজদিখানে বাল্কহেড চলাচলে ভাঙন- আতঙ্কে ইউনিয়নবাসী

সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ): মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ইছামতী নদী দিয়ে অবাধে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে। এতে ৪-৫টি বাঁশের সাঁকো ও ২টি সেতু এবং শতাধিক বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। এর ফলে রাজানগর ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বাড়িঘর,বাঁশের সাঁকো ও সেতু রক্ষার্থে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ভাড়ালিয়া বাজারে সরেজমিনে ইছামতী নদী দিয়ে অবাধে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে ভাড়ালিয়া বাজারে আসা-যাওয়ার জন্য সেতুটির ৪টি খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা লাগছে বাল্কহেডের এবং সেতুর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন এবং ফাটল দেখা দিয়েছে। এর ফলে সেতুর ২টি খুটি হেলে গেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এখনই বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ইছামতী নদী দিয়ে দিন রাত অবাধে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে। এতে রাজানগর ইউনিয়নের ব্যক্তিগত জমি এবং কেয়াইন ইউনিয়নের বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানির জমিসহ ব্যক্তিগত জমি ভরাটের কাজ করছে স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র। এতে তারা নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই অবৈধ এ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই নদীটি আকারে ছোট হওয়ায় বালুবাহী বাল্কহেড অবাধে চলাচলের কারণে নদী পাড়ের আশপাশের শতাধিক বাড়িঘর, ৪-৫টি বাঁশের সাঁকো এবং ২টি সেতু ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা লালচান বেপারী বলেন,বর্ষা মৌসুম আসলেই অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেড অবাধে চলাচল করে। এতে আমাদের বাড়ি ঘর ভাঙনের মুখে পড়ে। প্রতি বছর কারো না কারো বাড়ি ঘর এই নদীতে ভেঙ্গে যায়। তারপরও এই বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ হয় না। কোন ব্যবস্থাও নেয় না প্রশাসন।

আমরা চাই দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেডের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটাই আমাদের দাবি। মো. আকবর হোসেন বলেন, নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে রাত-দিন অবাধে অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল করছে, এতে আমাদের চলাচলের একমাত্র সেতুটির ৪টি খুঁটিতে একাধিক ধাক্কা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া আমাদের একটি বাশের সাঁকো একেবারে ভেঙেই ফেলেছে।

আমরা চাই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন। রাজানগর ইউপির ৬নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো.আলামীন বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে রাত-দিন শতাধিক অবৈধ বালুবাহী বাল্কহেড অবাধে চলাচল করছে, এতে করে নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া আমাদের ভাড়ালিয়া বাজারের সেতুটি যেকোনো সময় ভেঙে নদীতে পড়তে পারে। এছাড়া একটি বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে ফেলেছে। এই বালুবাহী বাল্কহেডের কারণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে গ্রামবাসী। আমরা চাই দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অবৈধ বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করবে প্রশাসন।

রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথে বালুবাহী বাল্কহেড অবাধে চলাচল করছে। আমাদের নদীর পাড়ের ঘর দুয়ার, বাঁশের সাঁকো, সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমরা প্রতিদিনই চেষ্টা করছি বাল্কহেডগুলোর চলাচল বন্ধ করতে, কিছু প্রভাবশালী মহলের কারণে বন্ধ করতে পারছিনা। ইউএনও স্যারকে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অবৈধ বাল্কহেডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ড্রেজার মালিক সোহাগ হাসান বলেন,এখন যেহেতু নদীতে পানি আছে বাল্কহেড চলবে। এতে সমস্যা কি? এছাড়া আমার বালুবাহী বাল্কহেড সেতু এবং বাঁশের সাঁকো ভাঙ্গেনি। এই সেতুটি অনেক পুরনো,তাই ঝুঁকিপূণ হয়ে গেছে। এতে আমরা ক্ষতি করি নাই। আর যদি ক্ষতি করে থাকি গ্রামবাসী আমাদের বলতে পারে,আপনাদের (সাংবাদিক) বলে লাভ কি? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, এখন বর্ষা মৌসুমের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বালুবাহী বাল্কহেডগুলো চলাচল করছে। এতে যদি আমাদের সরকারি কোন স্থাপনা এবং ওই এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতি করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *