সিরাজদিখানে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ফসলের ক্ষতি

আরিফুর রহমান-সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন সারাদেশেই টানা বৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখানে ১৪ টি ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে ছিল হিমেল হাওয়া। বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। ক্ষতি হয়েছে রবি সবজির। বাতাসে নষ্ট হয়েছে মাঠের পাকা আমন ধানের। বাতাসে ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোনো কোনো জায়গায় ধান গাছ তলিয়ে গেছে।  সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আধাপাকা ধানের। এ ছাড়া শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, আমরা এ ধানের আশায় বুক বেঁধে ছিলাম। কিন্তু এ হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে আমাদের কষ্টের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা এবার লক্ষ্যমাত্র অনুযায়ী ধান পাব না। যেখানে প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ মন ধান হত সেখানে ৫ মন ধানও সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষক ভবন দাস জানান, তার দুই বিঘা শিম ক্ষেতে জলাবদ্ধতায় গাছ মরে যাচ্ছে।

এ ছাড়া ৫ বিঘা জমির আধাপাকা ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার মত কষ্ট করে ধান রোপন করে যে সকল কৃষক লাভের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাদের গোলায় এবার ধান ওঠবে না। মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কাকালদী গ্রামের কৃষক রিপন শেখ বলেন, আর কয়েকদিন পরেই আমন ধান কাটার প্রস্তুতি ছিল। বাতাসে পাকা ধান নুয়ে পড়ছে। জমিতে পানি হয়ে গেছে। এখন ধান কাটা কষ্ট হয়ে যাবে।

অনেক ধান নষ্টও হবে। সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, বৃষ্টির কারণে রবি সবজির বীজ তলার ক্ষতি হয়েছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধান চাষিদের। অতি বর্ষণের কারণে এ বছর সিরাজদিখানে কৃষকের উৎপাদিত উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গে, পেঁপে গাছ পানি সহ্য করতে পারে না। জমিতে পানি জমলে এসব গাছ মারা যায়। যাদের এ ধরনের সবজি নষ্ট হয়েছে তাদের স্বল্প মেয়াদি সবজি চাষে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *