ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা ভূমি বৈচিত্রময় একটি এলাকা। একদিকে যেমন বিপুল পরিমান খাস জমি রয়েছে উপজেলাটিতে। অন্যদিকে অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে ২০০০ (দুই হাজার) ওর অধিক। এসব সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এখন অবৈধ দখলদারদের কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তাঁরা এ উপজেলা থেকে বেশ কিছু অবৈধ দলখদারদের উচ্ছেদ করেছেন।
সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের জমি অবৈধ দখলদারদের নিকট থেকে উচ্ছেদ করা, অর্পিত সম্পত্তি আইন অনুযায়ী লীজ প্রদান কররে রাজস্ব আদায়, অর্পিত সম্পত্তি হতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও এসব জমির শ্রেণী পরিবর্তন বন্ধ করার এক্ষেত্রে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড নিরলসভাবে মাঠে কাজ করছেন। এসব সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে তাদেরকে অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের রোষানলেও পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রশাসনে কর্মরত ইউএনও। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মতিউর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর থেকে নবাবগঞ্জে সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার রাস্তার জমি উদ্ধারের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। যা গত এক দশকে নবাবগঞ্জবাসী চোখে দেখেনি। এরমধ্যে, নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলার কুখ্যাত ভূমি দস্যু জাহাঙ্গীর, গালিমপুর মৌজাস্থিত ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রাস্তায় জমি দখল করে তিন তলা বিল্ডিং তুলে ফেলেছিলো। এই ভবন নির্মানের শুরুতে তাকে বাঁধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি দুই বার তাকে জেল হাজতে পাঠানোও হয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তিনি ১নং খাস খতিয়ানের জমিতে রাতারাতি তিন তলা ভবন তুললেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। গত ২৮ নভেম্বর ২০২২ সালে উপজেলা প্রশাসন এই ভবন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছেন। এখানে ৩২ শতাংশ জমিতে আরেকটি প্রভাবশালী হেটেল স্থাপন করে বাণিজ্য করে আসতেছিলো। উপজেলা প্রশাসন এগুলোও উচ্ছেদ করে জনসাধারনের জন্য রাস্তা উন্মোক্ত করে দিয়েছেন। এই জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ্য টাকা। উপজেলার পুরাতন বান্দুরা মৌজায় বান্দুরা বাজারের সংলগ্ন ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ শতাংশ খাস জমি নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বড় জাফরপুর মৌজায় ১৩শতাংশ, বড় বলমন্তচর মৌজায় ২শতাংশ, হাগ্রাদী মৌজায় ১০শতাংশ, শিকারীপাড়া মৌজায় ১০শতাংশ, চন্দ্রখোলা মৌজায় ৫৬শতাংশ, পুরাতন বান্দুরা মৌজায় ১১শতাংশ কোটি টাকা মূল্যের ১নং খাস খতিয়ানের জমি বর্তমান উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার করেছেন। এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ((ইউএনও) এর সহযোগিতায় এসিল্যান্ড মো. আঃ হালিম অত্যন্ত সাহসিকতা ও সততার সাথে কাজ করেছেন। কোন প্রভাব ও প্রলোভন এই নবীন কর্র্মতাকে খাস জমি চিহ্নিত করণ, উচ্ছেদ ও রক্ষনাবেক্ষণে নিভৃত করতে পারেনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আঃ হালিম প্রতিদিন রুটিন কাজের পাশাপাশি শতাধিক সেবা প্রত্যাশিদের গণশুনানি নেন। দিনের অর্ধেক সময় কাটে অফিসিয়াল কাজ করে বাকি সময় তিনি (সি.এস), (এস.এ) ও (আর.এস) ম্যাপ সার্ভেয়ার নিয়ে নবাবগঞ্জে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেন সরকারি জমি চিহ্নিত করণ ও উদ্ধারের জন্য। বর্তমার এসিল্যান্ড অবৈধ দখলদারের জন্য এক আতঙ্কের নাম। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো অর্পিত সম্পত্তি প্রায় এক দশক পর অভিভাবক ফিরে পেয়েছে। গত জুলাই ২০২২ থেকে অধ্যাবধি (ইউএনও) এর নির্দেশে এসিল্যান্ড মো. আঃ হালিম নবাবগঞ্জে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অর্পিত সম্পত্তি পরিদর্শন করে লীজ প্রদান করেছেন। অবৈধ দখলদারদেকে প্রয়োজনে উচ্ছেদ করেছেন। গত ১০ মাসে প্রায় ৫১ একর অর্পিত সম্পত্তি গড়ে ৩১ বছর ধরে অলীজকৃতভাবে পরে থাকা জমি লীজ প্র্রান করে প্রায় ৩৭ লক্ষ রাজস্ব আদায় করে রাস্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছেন।
এরমধ্যে সবচাইতে বড় সাহসী কাজ করেছেন, অর্পিত সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় উপজেলা প্রশাসন নবাবগঞ্জ ১.৫৫ একর আয়তন বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি “ব্রজ নিকেতন” উদ্ধার করে নবাবগঞ্জবাসীর কয়েক দশকের চাওয়াকে পূরণ সুনাম কুড়িয়েছেন এই প্রশাসন। এলাকার সব থেকে প্রভাবশালীদের নিকট থেকে এই জমিদার বাড়ি কোন দিন উদ্ধার হবে তা ছিলো অকল্পনীয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার একজন প্রভাবশালী বর্তমান (ইউএনও) কে দেখে নেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। বর্তমান ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মমিনুর রহমান এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন নবাবগঞ্জ সরকারি সম্পত্তি, খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার ও রক্ষনাবেক্ষণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মতিউর রহমান বলেন, জনগনের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব। এবং সরকারের রাজস্ব আদায় করা। মাঠে এসব কাজ করার ক্ষেত্রে অনেকে আমাদের হুমকি ধুমকি দিয়ে থাকে। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে আমরা বদ্ধ পরিকর।
