মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের দাশেরহাটি গ্রামের একটি সরকারি পুকুর থেকে ৭ দিন যাবৎ প্রকাশ্যে মাটি কেটে নিচ্ছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. রিপন।
চেয়ারম্যানের দাবী, রাস্তায় মাটি ফেলার জন্য পুকুরের মাটি কেটে স্টক করে রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে সরকারি প্রকল্প পেয়ে এ মাটি কাজে লাগানো হবে।
সরেজমিনে, শুক্রবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে দেখা যায় ভেকু দিয়ে পুকুরের মাটি কেটে একাধিক ট্রলিযোগে পাশেই স্টক করে রাখা হচ্ছে। পুকুর সংলগ্ন আজিজ বেপারীর বাড়িতেও ফেলা হচ্ছে এ মাটি। পুকুরের পাশ ঘেঁষে সরকারি কাঁচা রাস্তাটি ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় প্যালা সেটিংয়ের কাজ চলছে। সরকারি ১% কাজের ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে দাশের হাটি ঈদগাহ মাঠ থেকে দেওয়ান বাড়ি মসজিদ পর্যন্ত সাড়ে ৩০০ মিটার কাজটি পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সায়েদুল ইসলাম। ইতোমধ্যে তিনি কতকগুলো সিমেন্টের খুঁটি পুতে কাজ শুরু করেছেন।
প্যালা সেটিংয়ের কাজ শেষ হলে আলাদাভাবে মাটি ভরাট করবেন বিধায় পুকুর থেকে মাটি কেটে জমা করছেন চেয়ারম্যান । আর এ মাটি কাটার কাজ চেয়ারম্যানের পক্ষে দেখাশুনা করছেন তারই চাচাত ভাই আব্দুল হালিম দেওয়ান ।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন সরকারি পুকুর থেকে মাটি কেটে মালেক ও বাবুলের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ মাটি কাটার কাজে বাঁধা দেয়ায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন রবিউল ইসলামকেও হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পরেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি কাটা বন্ধ না করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চারিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. রিপন পুকুর থেকে মাটি কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি পকেটের টাকা খরচ করে রাস্তায় মাটি ফেলছি। পরবর্তীতে প্রকল্প দিয়ে টাকা উত্তোলন করে নিব।
চারিগ্রাম ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা খায়রুল বাশার বলেন, মাটি কাটার খবর শুনে অফিসের পিয়ন রবিউল ইসলামকে পাঠানো হয়েছিল। তার সাথে চেয়ারম্যানের লোকজন খারাপ আচরণ করেছেন। বিষয়টি আমি এসিল্যান্ড স্যারকে অবগত করবো।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথ বলেন, কোনো ভাবেই সরকারি পুকুর থেকে মাটি কাটার নিয়ম নেই। আমি বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।
