মো:কাজী সোহেল: ঢাকার দোহারে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনার তিন দিন পর মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় আরও দুটি লাশ উদ্ধার করেছে দোহার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এর আগে গত রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার দোহার ও চরভদ্রাসন উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বর্ডার এলাকার পদ্মা নদীতে দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে উল্টে যায়। এতে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার গুহ লক্ষীপুর এলাকার শুকুমার হালদার (৬৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়। তিনি ঐ এলাকার শিরিশ হালদারের পুত্র। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত ও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ছিল।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলার চরভন্দ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা কবির ও থানা অফিসার ইনচার্জ মিন্টু মন্ডলের সার্বিক তত্বাবধানে মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর দুর্ঘটনাস্থলের আশে পাশে এ উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হয়। এতে ঢাকা,ফরিদপুর ও চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অংশ নেয়। এ সময় গাজিরটেক ইউনিয়নের চর তেলিডাঙ্গী গ্রামের কুদ্দুস খন্দকারের ছেলে রানা খন্দকার (২২) ও ফরিদপুর সদরের হাট গোবিন্দপুর গ্রামের মো. কাইয়ুম আলী মৃধার ছেলে মো. দাউদ মৃধা (৩৮) এর লাশ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।
উদ্ধার শেষে রাতেই (ইউএনও) তানজিলা কবির লাশের পরিচয় সনাক্ত করে স্ব স্ব স্বজনদের নিকট লাশ হস্তান্তর করেন। এ ছাড়াও এই দুর্ঘটনায় ফরিদপুর পৌরসভার জয় গোপাল গোস্বামী এর ছেলে বলরাম গোস্বামী, চরভদ্রাসন সদরের ফাজেল খার ডাঙ্গী গ্রামের মৃত. চান মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলাম ও আকটেরচর ইউনিয়নের মনিকোঠা বাজার সংলগ্ন এলাকার খোকন নামের আপর এক ব্যাক্তির নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবী করেছে তাদের পরিবার।
উল্লেখ্য৷ গত রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে পদ্মা নদীতে দুটি স্পিড বোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুটি বাহনই উল্টে যায়। স্থানীয়রা জানায় গত শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল হতে ফরিদপুরের বিভিন্ন যায়গা থেকে দোহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নুরুল্লাহ্পুরের মেলা দেখতে আশে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। তারা সারারাত মেলা উপভোগ করে পরের দিন রবিবার সকালে মৈনুটঘাট থেকে স্পিডবোটে উঠে। এ সময় স্প্রীড বোটে ঢাকার যাতায়াতের যাত্রীও ছিল। বোডটি দোহার ও চরভদ্রাসন বর্ডার এলাকায় পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা যাত্রী বিহীন একটি বোটের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় বোট উল্টে সকলে নদীতে পরে যায়। পরে কাছেই থাকা অপর একটি স্পিড বোট ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ সময় গুরতর আহত অবস্থায় শুকুমার হালদার ও মো. মতিউর রহমানকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক শুকুমার হালদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মতিউর রহমান উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকার আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
