নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সা‌বেক চেয়ারম্যা‌নের ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতি‌বেদকঃ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, হালিম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা একেএম আব্দুল হালিম (৮৫) রাজধানীর একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি……রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ আত্নীয়-স্বজন রেখে যান। মঙ্গলবার বাদ আছর চুড়াইন ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। গোবিন্দপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

তিনি লন্ডন থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ৮০ এর দশকে এদেশে গড়ে তুলেন জার্জ ডিষ্ট্রিলারীজ নামক শিল্প প্রতিষ্ঠান। তারপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৬ সালের দিকে নবাবগঞ্জের অনেক উন্নয়নকামী, বর্তমান সময়ের অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ তার সান্নিধ্যে পেয়েছেন।

১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে অকাতরে চাল, আটা, চিড়া, গুড়, বিস্কুট, আলু, দুধসহ যাবতীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন ‘হালিম ফাউন্ডেশন’ নামক মানবিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। যার কারনে আশির থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত মানুষের মুখে মুখে ছিল এই গুনী শিল্পপতির নাম।

একেএম আব্দুল হালিম ১৯৮৯ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনে করেন রিক্সা মার্কায়। সেসময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল মাঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহম্মেদ তার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে জনগণকে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন ‘কঁচুগাছে কখনো আম ধরে না’ যদি রিক্সা মার্কায় ভোট দেন তবে তা কচুরী পানার মত ভেসে যাবে। একেএম আব্দুল হালিম রিক্সা মার্কায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিশাল একটি গণমিছিল হয়েছিল। আর সে মিছিলের স্লোগান ছিল “কঁচু গাছে আম ধরেছে, হালিম ভাই পাশ করেছে”।

একেএম আব্দুল হালিম উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন এলাকার উন্নয়নে অবদান রেখেছিলেন। এমন কি তার সম্মানির টাকা গুলোও গরীব মেধাবীদের দান করে দিতেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার জার্জ ডিষ্ট্রিলারীজকে নিলামে তুলে দেন তৎকালীন ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদদের সন্তানেরা। তারা নিলাম নিয়ে মার্শাল ডিস্ট্রিলারীজ নামে রুপান্তর করেন। এভাবে একজন দানবীর ও শিল্পপতির অপমৃত্যু হয়।

একেএম আব্দুল হালিম ঢাকা জেলার আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন সমাপ্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *