কেরানীগঞ্জে হযরতপুর ইউনিয়নের ৩টি ভোট কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনা আবারো স্থগিত

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার কেরানীগঞ্জে হযরতপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে ৩টি ভোট কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনা আবারো স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নালের এক লিখিত আবেদনের পরিপেক্ষিতে এই পুনঃগণনা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এই ভোট পুনঃগণনা কার্যক্রমকে ঘিরে আজ বুধবার কোনাখোলা উপজেলা সদরে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। মোতায়েন করা হয় শতাধিক পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনী।

জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর হযরতপুর ইউপি নির্বাচনে লংকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল ও ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিনের ভোটের ফলাফল শীট নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। ১২টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল দাবি করেন তিনি ৪৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। অপরদিকে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন দাবি করেন তিনি ১২টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১৫৮ ভোটে এগিয়ে আছেন।

এ অবস্থায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস ফলাফল স্থগিত রাখেন। পরবর্তীতে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দীন লংকার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনা ও ফলাফল ঘোষণার দাবিতে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের কোনো আদেশ নির্বাচন কমিশন পায়নি। শুধুমাত্র একটি উকিল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তারা হযরতপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, চরজগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং লংকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার আদেশ দেন।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে লংকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্ত সকলের সাথে গণশুনানী করেন। গণশুনানীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিপি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকলের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নৌকা প্রতিেিকর চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল নির্বাচন কমিশনের ভোট পুনঃগণনার আদেশ চেলেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন (রীট পিটিশন নম্বর: ৮১৯/২০২২)। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ রীট পিটিশনের আদেশে নির্বাচন কমিশনের ভোট পুনঃগণনার আদেশকে ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন হাইকোর্টের আদেশকে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এবং আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। এরপর নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল আপিল বিভাগের পুর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানীর জন্য আবেদন করলে ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখ শুনানীর জন্য রাখার আদেশ দেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিদায় নেয়ার শেষ মূহুর্তে এক দিনের মধ্যে তরিঘরি করে ভোট পুনঃগণনা করে কমিশনে পাঠানোর জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ রির্টানিং অফিসারকে নির্দেশ দেন। রির্টানিং অফিসার তার বাবা মারা যাওয়ার কারণে ছুটিতে থাকায় কমিশনের কাছে সময় চাইলে কমিশন এক দিনের সময় দেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের বিদায় হওয়ার পরেও অদৃশ্য চাপে রির্টানিং অফিসার ১৫ ফেব্রুয়ারি মাত্র কয়েক ঘন্টার নোটিশে প্রিজাইডিং অফিসার, প্রার্থী ও প্রার্থীর প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।

একজন প্রিজাইডিং অফিসার করোনা পজেটিভ থাকায় ও অন্যজন অসুস্থ থাকায় তারা ছুটিতে রয়েছেন। অন্যদিকে মহামান্য আপিল বিভাগের পুর্নাঙ্গ বেঞ্চে ২০ফেব্রুয়ারি শুনানী রয়েছে মর্মে মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নালের আইনজীবির প্রত্যায়নপত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, জেলা প্রশাসক, ঢাকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা ও রির্টানিং অফিসার, হযরতপুর ইউনিয়ন প্রত্যেকের কাছে পৌছে দেয়া হয়। কিন্তু তারা তা আমলে না নিয়ে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ভোট পুুনঃগণনার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক ঘন্টা নোটিশে প্রিজাইডিং অফিসারগণ উপস্থিত হতে না পারায় রির্টানিং অফিসার অবৈধভাবে উপজেলা পরিষদের ৩ জন কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে ভোট পুনঃগণনার জন্য নিয়োগ দেন।

কিন্তু ঐ কর্মকর্তাগণ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন আয়নাল পূর্বে দায়িত্ব পালন করা প্রিজাইডিং অফিসারদের অনুপস্থিতিতে ভোট পুনঃগণনায় রির্টানিং অফিসার বরাবর ভোট পুনঃগণনায় লিখিত আপত্তি জানান। এতে তিন কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *