নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভায় টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে ও টোল আদায় বন্ধের দাবিতে আওয়ামী মোটরচালক লীগের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজার, কলেজ রোড এবং উপজেলা মেইন রোড, লটাখোলা করমআলীর মোড় ও নূরপুর মাঠ সংলগ্ন প্রধান সড়কে কর্মসূচি পালন করেন সংগঠণটি। এসময় তাদের সাথে যুক্ত হয় অন্যান্য যানবাহন চালকরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘দোহার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে চাঁদা তুলছে। তারা চাঁদা তুলতে গিয়ে আমাদের লোকজনের গায়ে হাত তুলছে। আমরা দিন আনি, দিন খাই। আমাদের পেটে লাথি দিচ্ছে তারা। সরকারের জন্য আমরা জীবনবাজি রেখে মিছিল-মিটিং করি। আর এখন আমাদের ওপরই চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। আর এই চাঁদার ভাগ প্রভাবশালী কায়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং বাজার কমিটির একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পৌরসভার সঙ্গে যোগসাজশে তুলছেন।’ সব টাকা পৌর ফান্ডে জমা হচ্ছে না বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী মোটরচালক লীগ দোহার উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিপন শিকদার বলেন, ‘আমরা কামাই করে খাই। আমরা কেন তাদের টাকা দেব? প্রয়োজনে একটা বার্ষিক লাইসেন্স ফি নিক। তাঁরা প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে প্রতি অটোরিকশা বাবদ ২০ টাকা করে নেন। এভাবে তারা অন্যায়ভাবে টাকা আদায় করেন। সে জন্য আমরা এই বিক্ষোভ করেছি।’
এ সময় বিক্ষোভকারীরা উপজেলার মেইন রোডসহ বিভিন্ন পয়েন্ট কোনো অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঢুকতে দেননি। পরে নূরপুর এলাকায় গাছে টুকরো ফেলে রাস্তা অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থলে এসে দুইদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসবে বলে বিক্ষোভকারীদের জানালে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
এবিষেয়ে দোহার পৌরসভার প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, ‘মোটরচালকদের থেকে দুদিনের সময় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা সাংসদ সালমান এফ রহমানকে জানিয়েছি। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনগণ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। কারণ, এখন মেইন রোডে জ্যাম হয় না। এ ছাড়া কোনো চালক যাত্রীদের জিম্মি করে রাখতে পারছেন না। স্ট্যান্ডে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে।’
