দোহারে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহার উপজেলায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার নূরপুর মাঠ সংলগ্ন ঢাকা-দোহার আঞ্চলিক মহাসড়কে এ মানববন্ধন করে দোহার ঘাটা এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, ২০১৭ সালের ২৫ জুন নূরপুর মাঠ সংলগ্ন নাদু ভূইয়া মার্কেটে বিসমিল্লাহ ভ্যারাইটিস স্টোরের মালিক মনির হোসেনকে ইফতারি দিতে যায় তার বড় ভাই বিল্লাল হোসেন। ডাকাডাকি করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে।  সংবাদ পেয়ে পুলিশ দোকানের সার্টার খুলে মনিরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মিটফোর্ট হাসপাতালে প্রেরণ করে। এর দুমাস পর মিডফোর্ট হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তে স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রতিবেদন দেয়। নিহতের পরিবার স্বাভাবিক মৃত্যুর এ রিপোর্ট  মেনে না নিলে মৃত্যু রহস্যে গড়ায়। ২ বছর পর ০৮ আগষ্ট ২০১৯ সালে মনিরের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ৭ সাতজনকে আসামী ও ১৭ জনকে স্বাক্ষী করে হত্যা মামলা দায়ের করলে মামলাটি সিআইডিতে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

মানব বন্ধনে ভূক্তভোগী স্বাক্ষী আওয়াল মেম্বার, ফেরদৌস মাষ্টার, মোখলেসুর রহমান মো. রফিক বলেন, আমরা নিহতের মৃত্যুর ব্যাপারে কিছুই জানিনা। প্রশাসনের কেউ আমাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাও করেনি। কিভাবে স্বাক্ষী করা হল তা বুঝতে পারছিনা। 

এ মামলার ১নং আসামী জাহাঙ্গীর আলম জানু বলেন, একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যাকান্ড সাজিয়ে আমাদেরকে আসামী করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে নিহতের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন। আমরা এ মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে সরকারের সহযোগীতা চাই।

মামলার আরেক আসামী আরিফ হোসেন মানব বন্ধনে জানান, এ ঘটনায় তারা কিছু না জানেন না। নিহত মনির স্বাভাবিক ভাবে মারা গেলেও জমিজমার বিরোধের জের কাজে লাগাতে পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে হত্যা মামলার আসামী করে হয়রানী করছে পরিবারটি।

উল্লেখ্য গত ২০ বছর ধরে বিল্লাল গংদের সাথে জাহাঙ্গীর আলম জানু পরিবারের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।

দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সিআইডি দুই বছর ধরে তদন্ত করছে। যেহেতু বিষয়টি তাদের তাই এ বিষয়ে মন্তব্য দিবোনা। তবে দুই পরিবারে জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে বলে আমি শুনেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *