শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর বাজারের পশ্চিম পাশে লোকমান হাওলাদার ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে জালিয়াতি হচ্ছে। রিপোর্টে এমবিবিএস ডাক্তারের পদ পদবীসহ নাম ব্যবহার করা হলেও তাতে স্বাক্ষর করেণ প্রতিষ্ঠানটির স্টাফ। মঙ্গলবার দুপুরে এমন একটি ভিডিও এবং জাল স্বাক্ষরকৃত একটি রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এই প্রতিবেকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় এক রোগীর রক্ত পরীক্ষা কারার পর তাৎক্ষনিক ভাবে প্রদান করা রিপোর্টে অনুপুস্থিত এক ডাক্তারের সিল ব্যবহার করে ওই স্টাফ স্বাক্ষর দিয়ে তা রোগীকে প্রদান করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভূক্তভোগী জানান, ষোলঘর বাজার ব্রিজের পশ্চিম পাশে লোকমান হাওলাদার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করাতে যাই। তাৎক্ষনিক ভাবে একজন লোকই রক্ত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রিন্ট করতে থাকে। এতে আমার সন্দেহ হলে আমি ভিডিও ধারণ করতে থাকি। একটু পরেই কর্তব্যরত ওই স্টাফ রিপোর্টে স্বাক্ষর করে তা আমাকে প্রদান করে।
তাতে ডাক্তার প্রদীপ বিশ্বাসের (এমবিবিএস (ডিএমসি) বিসিএস ঢাকা মেডিকেল কলেজ) সীল ব্যবহার করে তাতে স্বাক্ষর করা রিপোর্ট প্রদান করা। ডাঃ প্রদীপ বিশ্বাস এখানে বসেন না তা পূর্ব থেকে জানা থাকায় বুঝতে পারি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। । আমি প্রতারনার শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের বিষয়টি জানাই। পরে ঘটনাটি এলাকায় জানা জানি হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ডাক্তারের অবস্থান জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রীনগর উপজেলা ডায়াগনোস্টিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব হাওলাদার দাবী করে বলেন, ডা. প্রদীপ বিশ্বাস সপ্তাহে ৩-৪ দিন তার প্রতিষ্ঠানে বসেন। কিন্তু এখন নেই। তাহলে তার সীলে স্বাক্ষর করলো কে? এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। কিছুক্ষণ পরে ডা. প্রদীপ বিশ্বাসের নম্বর সংগ্রহ করে তার সাথে আলাপ করে জানা যায় তিনি এক সময়ে লোকমান হাওলাদার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে বসতেন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি এখানে আসেননা। পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্টে তার স্বাক্ষর ব্যবহার করার বিষয়ে তিনি বলেন, এমনটা করা হলে তারা অন্যায় করছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, তার প্রতিষ্টানটি লাইসেন্স নবায়ন বিহীন ভাবে চলে আসছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে একই রকম অপরাধে শ্রীনগর উপজেলা নির্বহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার মোবাইল কোর্ট বসিয়ে রাণী জেনারেল হাসপাতালকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে এবং জাল স্বাক্ষর প্রদানকারীকে ১ মাসের জেল দেন।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ রেজাউল হকের কাছে রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে অুপস্থিত ডাক্তারের স্বাক্ষর ব্যবহার করাটা কতটা বৈধতা বহন করে এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এক ধরণের প্রতারনা। এ বিষয়ে উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে অবহিত করার কথা বলেন তিনি।
এব্যাপরে মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে এমটি ল্যাব স্বাক্ষর দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের নাম কিংবা স্বাক্ষর ব্যবহার করা যাবেনা। এমনটা করা হলে সেটা অনিয়ম ও অন্যায় হবে।
