৩০ বছর ধরে জটিলব্যাধি নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন সংগ্রামে-নুরজাহান

মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস,সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): নুরজাহান (৫০) দু,সন্তানের জননী মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার বালিরটেক গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী। তিনি সিংগাইর উপজেলার আজিমপুর মহল্লায় আব্দুল মোল্লার ছেলে আনোয়ার হোসেনের জরাজীর্ন বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বামী স্ত্রী বসবাস করেন। নুরজাহান (৫০) বিরল প্রকৃতির রোগ নিয়ে প্রায় ত্রিশ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে দিন কাটাচ্ছেন। তার স্বামীও প্রতিবন্ধী এমনকি তারও পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। নুরজাহানের এ রোগের স্বামী,স্ত্রীর ভাল ধারনা নেই। টাকা পয়সার অভাবে কোন ভাল চিকিৎসকের শরাপন্ন হতে পারেননি। এমনকি তার এ রোগ ভাল হবে কিনা তাও সে জানে না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চলাফেরা কষ্ট হলেও পেটের তাগিদে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যাবধী মানুষের দোয়ারে দোয়ারে গিয়ে যা পায় তাই দিয়েই ছোট দুই সন্তান,স্বামী নিয়ে কোন রকম চলে নুরজাহানের সংসার।

নুর জাহান  প্রতিবেদককে জানান,আমার বয়স যখন ১২-১৩ তখন হঠাৎ শরীরে ঘামাছি গুটার মত উঠে। মা,বাবা গরীব মুর্খ থাকায় কোন ঔষধ খাওয়াইনি। আস্তে আস্তে গুটা গুলি বড় হতে থাকে। এবং শরীরে সম্পূর্ণ অংশে ছেয়ে যায়। স্বামী প্রতিবন্ধি ও গরিব হওয়ায় ডাক্তারের কাছে নিতে পারেনি। এখন আমি শরীরের ভারে চলতে পারিনা। তারপরও পেটের দায়ে বের হতে হয়। ভিক্ষা করে যা পাই তাই দিয়ে কোন রকম খেয়ে পরে বেঁচে আছি। তিনি আরও বলেন-আমার স্বামী শুধু প্রতিবন্ধি ভাতা পায়। বাড়ি ৩ শতাংশ জায়গা আছে ছাপড়া তুলে রয়েছি। আমাদের আর কিছুই নাই। আমাকে দেখে অনেকেই আপসোস করে কিন্তুু কেউ এগিয়ে আসে না। সরকার ও দেশের বিত্তবানরা যদি আমাকে দেখতো হয়তো আমার চিকিৎসা হলে ভাল হতাম। শেষ সময়টা হয়তো ভাল যেত কান্না জনিত কন্ঠে এমনি জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *