নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার দোহার উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে রেজিস্ট্রেশন বিহীন বেসরকারি ক্লিনিক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাত্র দু‘শ গজের মধ্যে গড়ে উঠেছে ৬ টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠান মানছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো নিয়মনীতি ।
দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম ঊদ্দিন বলেন , প্রকৃতির নিয়মের মধ্যে দিয়েই মায়ের গর্ভে সন্তানের জন্ম হয়ে আসছে পৃৃথিবীর শুরু থেকেই। কিন্তু বর্তমানে আধুুনিকতার দোহায় দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সিজারের নামে গর্ভবতী মায়েদের অপারেশন করে তাদের করা হচ্ছে প্রতিবন্ধি। এসকল অপারেশনের ফলে মায়েরা জীবনের বাকি সময়টুকু নিজের সংসারের ভারী কাজ করতে পারেন না। এ ছাড়া গর্ভবতী মাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার আগে অচেতন করার জন্য যে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয় তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পোহাতে হয় সারাজীবন।
সারাদেশে বেসরকাররি ক্লিনিকের উপর এক জরিপে দেখা যায় যে, নীরব মৃত্যুর শিকার হচ্ছে শতশত মা। সেই সাথে এসকল বেসরকাররি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকরা রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য রক্তের পরিক্ষা ২/৩ টি, মূত্র পরিক্ষা,আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ই.সি.জি-সহ এসকল পরিক্ষাগুলো করার জন্য পাঠায় বেসরকাররি হাসপাতাল , ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে রোগীদের প্রায় পরিক্ষাগুলো করতে ১৫’শ থেকে ২ হাজার টাকা গুনতে হয় রোগীর স্বজনদের।
সারাদেশের ন্যায় দোহারের চিকিৎসা সেবার নামে রমরমা ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠছে। এর সিংহভাগই অবৈধ। আবাসিক বাতিঘর, হাটবাজার, অলিগলিতে রয়েছে কথিক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ছড়াছড়ি। এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের এর মেয়াদ এক থেকে তিন বছর আগেই শেষ হয়েছে বলে অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। অনেকে নবায়নের আবেদন করেছে, কেউ আবার নবায়ন করেনি। এর পরেও এসব ক্লিনিক চলছে প্রকাশ্যে, সবার চোখের সামনে। তাদের চিকিৎসা বাণিজ্যও চলছে পাল্লা দিয়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো নিবন্ধন না নিয়ে কোথাও কোথাও শুধু ট্রেড লাইসেন্সে দিয়েও অসাধু ব্যবসায়ীরা চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন । কেউ কেউ লাইসেন্সের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তের আবেদন পাঠিয়ে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিং হোম খুলে বসেছেন। কেউ বা পরিচালনা করছেন রোগ নির্ণয়কারী ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অবৈধ ভুইফোড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল শাখা বরাবরই উদাসীন। ফলে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বছরের পর বছর চলতে থাকে। সাইনবার্ডে-সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার নামে হরদম চলে গলা কাটা বাণিজ্য। সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি গড়ে ওঠা দালাল নির্ভর এসব ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে নিরীহ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এক শ্রেণির দালাল সরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে সিন্ডিকেট করেই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এভাবে দিনের পর দিন স্বাস্থ্যসেবার সাথে মিশে থাকা ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী ,ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের চাপা কলে পিশে মরছে দোহারের সাধারণ জনগণ।
এছাড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়াতে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। রেজিয়া ক্লিনিকে এমন চিত্র ধরা পরে নববাংলার ক্যামেরায়। শুধু তাই নয় রোগীদের উন্নত সেবা না দিয়েও নেয়া হচ্ছে সার্ভিস চার্জসহ অতিরিক্ত কেবিন ভাড়া। এতে আরও ভোগান্তিতে পরেছে রোগীসহ তাদের স্বজনরা। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
খুব শীঘ্রই প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা রোগী ও তাদের স্বজনদের।
