স্টাফ রিপোর্টার,(মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে বোরো চাল সংগ্রহের ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে খাদ্য কর্মকর্তা, ডিলার ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে ।এ চাল সংগ্রেহে অনিয়মে স্থানীয় মহলের মধ্যে নানা সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্তৃক নিবন্ধনকৃত চাতাল কল মালিকদের কাছ থেকে ৬’শ ৩৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে সরকার। সে লক্ষে গত শুক্রবার (২২ মে) ২০২০ ইং অর্থ বছরে এ চাল সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা।এতে চলতি মৌসুমে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদাম ৬’শ ৩৪ মেট্রিক ট্রন বোরো ধানের চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে।

বিধি অনুযায়ী খাদ্য গুদামের নিবন্ধনকৃত চাতাল কল মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে ২৬ টাকা ধরে ধান ক্রয় করে তা থেকে চাল উৎপাদন করে ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করার কথা হলেও সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট খাদ্য অফিসের কর্মকর্তাদের যোগ-সাজসে উপজেলার কানাইনগর গ্রামের মো.কুদ্দুস ফকিরের পুত্র মো.ফরহাদ হোসেন গং বিভিন্ন অটোরাইস মিল থেকে নিন্ম মানের চাল ক্রয় করে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাদ্য গুদামের নিবন্ধকৃত ৪টি চাতাল কল থাকলেও সেটা বিভিন্ন অনিয়মের কারণে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়।
এ কারণে ডিলার মো.ফরহাদ হোসেন খাদ্য অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় উপজেলা বেরুন্ডি এলাকার আব্দুল লতিফের বিসমিল্লাহ রাইস মিল আম-মোক্তার নিয়ে ডিলার মো.ফরহাদ ওই মিলের নামে খাদ্য গুদাম থেকে কাগজপত্র ঠিক ঠাক করে ৬’শ ৩৪ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করার চুক্তি করেন। কিন্তু যে মিলের সাথে চুক্তি হয়েছে সে মিলের চাল উৎপাদনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। মিলের নেই পর্যাপ্ত চাল উৎপাদনের ধারণ ক্ষমতা।
এ বোরো মৌসুমে নির্দিষ্ট চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে স্থানীয় নাম-মাত্র মিল মালিক ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটরা ওই মিল থেকে চাল সংগ্রহ না করে বিভিন্ন এলাকা থেকে নিন্মমানের চাল সংগ্রহ করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
এতে সাধারণ কৃষক যেমন সরকারের এ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্য দিকে সরকারের মহৎ উদেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। অপরদিকে কিছু মুনাফাখোরদের পকেট ভারি হচ্ছে। তাছাড়া জানা যায়,নিন্মামনের এ চালই হতদরিদ্র কর্মসূচি ,ভিজিডি কার্ডধারিদের নিকট বিভিন্ন সময় বিতরণ করা হবে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,ওই চুক্তিবন্ধ বিসমিল্লাহ রাইস মিলে ১০/১২ বস্তা ধানের মজুদ থাকলে খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের মত কোনো আলামত দেখা যায়নি। তাই কৌশলে অতি মুনাফা লাভের আশায় বিভিন্ন অটো রাইস মিল থেকে নিম্মামনের চাল ক্রয় করে তরিঘড়ি করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মিল মালিক আব্দুল লতিফ বলেন-এ মিলের মালিক আমি। সিংগাইরে সব মিল বন্ধ থাকায় আমাকে কোনো টাকা পয়সা না দিয়ে মো.ফরহাদ হোসেন আমার মিলের অংশিদার দেখিয়ে কাগজপত্র ঠিক ঠাক করে সরকারি গুদামে চাল দেয়ার চুক্তি করে।
তিনি আরও বলেন-মানিকগঞ্জ ও সিংগাইর থেকে অফিসার এসে মিল দেখে গেছে। তাছাড়া সবকিছু মো.ফরহাদ করেছে। লাভ হলে আমাকে ভাগ দেয়ার কথা। আমার এখানে অল্পকিছু চাল উৎপাদন করি তা হাট বাজারে খুচরা বিক্রি করি। কিভাবে চাল দিবে ফরহাদের ব্যাপার। আমি সহজ সরল মানুষ এত কিছু বুঝি না।
ডিলার মো.ফরহাদ হোসেন,মিলের আম-মোক্তার নেয়ার কথা স্বীকার করলেও বাকি কথা মোবাইলে ফোনে বলতে অস্বীকৃতি জানান। সরাসরি কথা বলার জন্য দেখা করতে বলে এবং সব তথ্য দিবে বলে জানায় এ প্রতিবেদককে।
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আলমগীর হোসেন বলেন- বিসমিল্লাহ রাইস মিলের আম-মোক্তার নিয়ে ফরহাদ হোসেন চাল সরবরাহের পরিচালনা করছে।ওই মিল থেকে বেশি চাল নেয়া যাবে না ওখান থেকে ২শ’৪০ মেট্রিক টন চাল নেয়া হবে,এ পর্যন্ত ২ পাক্ষিক ৬০ মেট্রিক টন চাল নেয়া হয়েছে। ওই মিল চালু আছে ওখান থেকে চাল আনা হচ্ছে। তাছাড়া গুদামে চাল আনলে চালের মান দেখার দায়িত্ব আমার। অনিয়ম হলে জাহাঙ্গীর স্যার দেখবে,তার সাথে কথা বললে ভালো হয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন-উপজেলা খাদ্য গুদামে চাল দেয়ার চুক্তি হয়েছে জেলা খাদ্য অফিসের সাথে। উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মিল পরিদর্শন করে আমাকে একটা প্রত্যয়নপত্র দেয়। আমি সে মোতাবেক চাল রিসিভ করি। যদি কোনো অনিয়ম থাকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।
চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন-বিষয়টা আমাকে একজনে বলছিল তখন আমি পরির্দশনে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু যাওয়া হয়নি। আপনার মুখ থেকে শুনলাম অনিয়ম হলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব। তাছাড়া আগেই নিউজটা প্রকাশ করিয়েন না আজ-কালের মধ্যে মিলে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
