সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে বুধবার থেকে সরকার কর্তৃক লকডাউন ঘোষণা ও সাত দিন ব্যাংকিং সেবা বন্ধ থাকার খবরে সোম ও মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ব্যাংকের শাখাগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোঁখে পরার মত। টাকা উত্তোলন করতে চরম ভোগান্তির শিকারও গ্রাহকরা।
সরেজমিন উপজেলার চারিগ্রাম অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৯ টায় থেকে ব্যাংকের গেইটে শত শত নারী গ্রাহকরা ভিড় করছে। তারা ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশের জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাংকের ভিতরে স্বাস্থ্য বিধি মানার নেই কোনো বালাই । এদিকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। ব্যাংকের সার্ভারের সমস্যার কারণে অনেক গ্রাহক টাকা উত্তোলন করতে না পেরে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে গেছেন।
একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, তাদের গচ্ছিত আমানত ব্যাংকে রাখার পরেও লকডাউনে কারণে সেই টাকা না উঠাতে পারলে পরিবার নিয়ে পরতে হবে চরম ভোগান্তিতে।
অভিযোগ করে গ্রাহক আলামিন মিয়া বলেন, আমার উপার্জনের একমাত্র সম্বল ব্যাংকে রেখে আজ টাকা উঠাতে পারলাম না আজ রমজানের বাজারসহ পরিবারের সদস্যদের ঔষধ পত্র কিনতে পারবো না। ধার দেনা করে লকডাউনের সময় পরিজন নিয়ে চলতে হবে।
গ্রাহক অজিফা খাতুন বলেন, আমি সকাল ১০টা থেকে ব্যাংকে দাড়িয়ে আছি। ২০ হাজার টাকার চেক দিয়েছি কিন্তু টাকা দেয় নাই। লক ডাউনে ব্যাংক বন্ধ থাকবে তাই বাজার সদাই কিভাবে করব বুঝতে পারছি না।
চারিগ্রাম কৃষি ব্যাংক শাখার সিনিয়র অফিসার মো. জিন্নত আলী বলেন, আমাদের শাখায় ভিড় আছে কিন্তু নেটের সমস্যার কারণে টাকা ডেলিভারী দিতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্বাস আলী বলেন, গত দু’দিনের চাপে ব্যাংকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। গ্রাহক সংখ্যা বেশী হওয়ায় সামাল দিতে সমস্যা হচ্ছে।
অপরদিকে ,উপজেলার সকল ব্যাংকের শাখা গুলোতে একই অবস্থায় স্বাস্থ্য বিধি না মেনে গ্রাহকের উপচে পড়া ভিড় ছিল। গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি লক্ষ করা গেছে।
উল্লেখ্য করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে লকডাউন দেন। এদিকে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা দেন। লকডাউনের সব ব্যাংক তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
