মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস(মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ফরহাদ (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ী বিভিন্ন এনজিওর ঋনের কিস্তির চাপে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর রাতের যে কোন সময় সিংগাইর পৌর এলাকায় মধ্য সিংগাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো.ফরহাদ হোসেন (৪৫) দু সন্তানের জনক ও ওই এলাকার মৃত-মো.আজাহার উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,করোনা ভাইরাসের কারনে গত দেড় মাস যাবৎ ফরহাদ বাড়ি থেকে বের হয় না। বাড়িতে চুপচাপ থাকতো। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১০টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় পরিবারের সাথে খাওয়া-দাওয়া করে তার নিজ শ্বয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ বুধবার ভোর ৫টার দিকে পাশের বাড়ির একতলা বিল্ডিংয়ের বাহিরে লোহার সিড়ির সাথে গলায় তোয়ালা পেচানো অবস্থায় দেখতে পায় ওই বাড়িতে থাকা নারায়ন। সাথে সাথে পরিবারকে জানালে তারা ঘটনাস্থল থেকে মৃত অবস্থায় তাকে নামিয়ে ফেলে। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ হোসেন প্রায় দেড় মাস ধরে বাড়ি থেকে বের হয় না। এমনকি পরিবারের লোকজনের সাথে তেমন কথা বলতো না। চুপচাপ থাকতো। সে বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় পনের লক্ষ টাকার মত ঋন নিয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারনে ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ থাকায় সে হতাশ হয়ে পড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সে দিশেহারা হয়ে এ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে তাদের ধারনা।
পৌর মেয়র এড্ মো.খোরশেদ আলম ভূইয়া জয় বলেন- একাধিক এনজিও থেকে ঋন এনেছে। কিস্তির চাপে সে আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের ধারনা।
তদন্ত কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম বলেন, কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে সে আত্মহত্যার করতে পারে আমাদের ধারনা। বেশ কিছু এনজিওর ঋনের হিসাব পেয়েছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করেছি। এ ব্যাপারে অপমৃত্যর মামলা প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন-যদি এ রকম হয়ে থাকে,কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
