সিংগাইরের মজলিশপুরঘাট ধলেশ্বরী নদীতে সেতুর অভাবে দীর্ঘ দিনের জনদূর্ভোগ নদীর ওপর বাঁশের সাঁকোই দশ গ্রামবাসীর ভরসা

মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস, সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)থেকে: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর বাঘারচরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে এক সময়ের খরশ্রোতা ধলেশ্বরী নদী। এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে দশ গ্রামের প্রায় বিশ হাজার লোকজন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও এ নদীর ওপর জনপ্রত্যাশিত সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় তালেবপুর,মজলিশপুর,বাঘারচর,চর চারাভাঙ্গা,চরজামালপুর,কাশেমপুর,কালীনগর,চর কৃষ্ণপুর,মাধবপুর,রাজিবপুর,এ দশ গ্রামবাসির যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকোই।

সরেজমিনে বুধবার(১৯ মার্চ) দুপুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়,প্রতিবছর নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি হলেও ইজারাদারের নিকট জিম্মি হয়ে পারাপার হতে হয় এ অঞ্চলের লোকজনের। স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের জীবনে ঝুঁকি নিয়ে আসা যাওয়া করতে হয় প্রতিনিয়ত। বর্ষা মৌসুমে স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে বিড়ম্বনা পড়তে হয়। সবচেয়ে চরম মূল্য দিতে হয় ডেলিভারি রোগী ও মূমুর্ষ রোগীদের। এ ছাড়াও সিএনজি, অটোরিকসা,ভ্যান ও মোটরসাইকেল পারাপারে র্দূঘটনার কবলে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত।

অপরদিকে,এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদিত পুন্যদ্রব্যে সময়মত বাজারজাত করণ না করতে পেরে ন্যয্য মূল্যে থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। সেতুটি নির্মিত হলে এপার-ওপারে প্রায় বিশ হাজার মানুষের জীবন যাত্রার মান পাল্টিয়ে যাওয়ার দ্বার উম্মোচন হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.সেলিম রেজা বলেন,এই নদীর উপর সেতু নির্মাণ হলে সব পেশা মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হত এবং কৃষকরা তার উৎপাদিত পন্যদ্রব্যের ন্যয্য মূল্য পেত। যার দরুন সেতুটি খুব প্রয়োজন। ষাটার্ধো কৃষক আব্দুল করিম জানান,নির্বাচন আইলে ব্রীজ দেওয়ার হিড়িক পরে যায়। নির্বাচন চইল্যা গেলে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের আর খবর থাকে না। অটোচালক চাঁন মিয়া বলেন,ব্রীজটি না হওয়ার কারনে আমাদের ছেলেমেয়েরা ঠিকমত স্কুলে যাইতে পারে না। শাঁকসবজী সময়মত বাজারে না নিতে পারায় সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারিনা।

স্কুল পড়ুয়া ছাত্র আকাশ মন্ডল জানান,ব্রীজটি হলে স্কুলের যাওয়া আসা সহজ হত এবং ভোগান্তি হতে মুক্তি পেতাম। ইজারাদার রহিম খাঁ স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আমি প্রায় ১৪ বছর যাবৎ এখানে ইজারাদার হিসেবে আছি। যাতায়াতে অনেকে টাকা দেয়। আবার দেয় না।

তবে এখানে ব্রীজ খুব জরুরি। উপজেলা প্রকৌশলী মো.আশরাফুল ইসলাম (ভূইয়া) বলেন,আমি দ্রুত সময়ে ভিজিট করে তথ্য সংগ্রহ করে ডিপিপিটি ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব পাঠাবো৷ ব্রীজটি যাতে দ্রুত সময়ে পাশ করানো যায় সেই ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *