নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর ১০ রহস্য প্রকাশ করে রাষ্ট্রের কাছে এর বিচার চেয়েছেন অভিনেতার মামা আলমগীর কুমকুম। তিনি মনে করেন, আত্মহত্যা নয়, সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে সালমান শাহকে। আলমগীর কুমকুম দাবি করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর কারণ তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। কারণ সামিরার সাথে সম্পর্কিত কিছু রহস্যময় ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজও যুক্তিসঙ্গত কোনো উত্তর মেলেনি। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ইস্যুর কারণে এতদিন সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য দায়ী খুনিরা কোনো শাস্তি পাননি। এবার সে খুনিদের বিশেষ করে সামিরার শাস্তি দাবি করেন তিনি।
আলমগীর কুমকুম বলেন, মৃত্যুর আগে বাথরুম থেকে আমাকে ফোন করে সালমান। বলে মামা আমি ডিভোর্স পেপারে সাইন করে সকালেই চলে আসছি। ওই সময়ই সামিরা সেটা শুনে ফেলে এবং ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়। আলমগীর কুমকুম আরও বলেন, মারা যাওয়ার খবর পেয়ে যখন সালমান শাহর বাড়িতে ছুটে গেলাম তখন দেখি টেবিলের মধ্যে খাবার পড়ে আছে। খাবারগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। দেখে বুঝা যাচ্ছিলো ঝগড়ার এক পর্যায় সালমান রাতের খাবারও খায়নি। নিজের শোবার বালিশ নিয়ে ঘুমাতে ড্রেসিং রুমে চলে গিয়েছিল হয়তো।
এরপর সামিরার নামে অভিযোগ করে নায়কের মামা বলেন, তখনই হয়তো সামিরা তার লোকজনকে ফোন করে ডিভোর্সের বিষয়টা আলোচনা করে। ওপর প্রান্ত থেকে কেউ হয়তো বলেছে আমি লোকজন পাঠাচ্ছি। ফ্ল্যাটে আসলে দরজা খুলে দিও।
সামিরার বিরুদ্ধে তোলা এসব অভিযোগের শক্ত প্রমাণ তুলে ধরে তিনি জানান সালমান যে আত্মহত্যা করেনি তার অনেক প্রমাণ রয়েছে। আঙুলের ছাপ, ছবি রয়েছে। সালমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ফ্ল্যাটে যাওয়ার পর অনেক কিছু দেখেই সেটা আন্দাজ করতে পেরেছি। অথচ ওই সময় পুলিশ নিশ্চুপ ছিল। সালমানের মৃত্যুর রহস্য বের করার দায়িত্ব আমাদের নয়, পুলিশের। সে সময় পুলিশ বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে রাজনৈতিক কারণে।
এরপরই চাঞ্চল্যকর ও প্রশ্নবিদ্ধ কিছু তথ্য তুলে ধরেন আলমগীর কুমকুম। সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রের কাছে অভিযোগ জানিয়ে সালমানের মৃত্যুর যেসব রহস্যের কুল কিনারা আজও পাওয়া যায়নি তার বিচার চান। আলমগীর কুমকুমের দেয়া চাঞ্চল্যকর ও প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো-
১। মৃত্যুর আগে সালমানের ব্যবহৃত সেলফোনটি আজও পাওয়া যায়নি। ওই ফোনে অনেক প্রমাণ লুকিয়ে থাকায় সেটির হদিশ নেই।
২। মৃত্যুর আগের কয়েক দিনের কলরেকর্ডগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
৩। সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রথম যখন ফ্ল্যাট খোলা হয় তখন ডিপিডিসি বজলুর করিম সাহেব ও পুলিশ কর্মকর্তারা ছিলেন। তারা প্রথমে ফাঁসির দড়িটি মাপেন। সালমান শাহ যতটুকু লম্বা এবং ওর গলায় যেখানে ফাঁসির দাগ সে অনুযায়ী ঝোলানো রশি পরিমাপ করে দেখা যায়, সালমান শাহর পা মাটিকে স্পর্শ করে। তাহলে কীভাবে সালমান শাহর মৃত্যু হলো তার রহস্য এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
৪। জানালার পর্দা ছেঁড়া ও জানালার গ্লাসে অসংখ্য আঙুলের ছাপ ছিল। এটি কেন জানতে চান তিনি।
৫। বাথরুমে পাওয়া গেছে লক করা একটি স্যুটকেস। তাতে ছিল ভেজা কাপড়। এর রহস্য কী?
৬। ফ্লোরে পাওয়া গেছে ডানহিল সিগারেট। কোনো ভদ্রলোক সিগারেট খেলে সেটি কি তার নিজের ঘরে ফ্লোরে ফেলবে, প্রশ্ন তার। তিনি আরও যোগ করে বলেন, এ সিগারেট সালমান শাহ খায় না। তাহলে ওই সিগারেট কার?
৭। পাশের বাসার প্রতিবেশি সাক্ষী দিয়েছে, মধ্যরাতে সালমান শাহর ড্রেসিং রুমে মারামারি হয়েছে তারা জানালা দিয়ে দেখেছে। তবে স্পষ্ট দেখেননি। তারা মনে করেছেন, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া। ওই দিন ড্রেসিং রুমে কী ঘটেছিল সে সঠিক তথ্য আমরা কেন বের করবো?
৮। ফ্যানে ঝুলতে দেখে সামিরা বলেছে, সে রশি কেটে সালমানকে নামায়। এরপর তাকে গোসল করায়। তার শরীরে তেল মালিশ করে। কীভাবে এটা সম্ভব? এ দৃশ্য দেখে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজনদের ডাকার কথা। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা। তা না করে সালমানকে গোসল করালো। নতুন হাফপ্যান্ট পরালো কেন?
৯। তাড়াহুড়ায় সে হাফ প্যান্টের স্টিকারও খোলা হয়নি দেখেছিলাম। হাসপাতালে না নিয়ে দুই চারজনকে দিয়ে নিথর শরীরে তেল মালিশ করিয়েছে সামিরা। এ তেল মালিশের কারণ কী?
১০। পরিবারের কেউ মারা গেলে পুলিশ মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পরিবারের সদস্যদের জেরা করে। প্রয়োজনে রিমান্ডে নেবে। এটাই আইনি প্রক্রিয়া। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো সালমানের হঠাৎ মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এ কারণে বাড়ির ৪ জনের কাউকেই (দুই গৃহকর্মী ডলি ও মনোয়ারা, কাজের লোক আবুল, স্ত্রী সামিরা) থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এর কারণ কী?
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে মারা যান ঢালিউডের ‘স্বপ্নের নায়ক’ খ্যাত সালমান শাহ। তার মৃত্যুকে স্ত্রী সামিরা হক আত্মহত্যা দাবি করলেও নায়কের মা, বাবা ও পুরো পরিবার দাবি করে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
Related