সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’বলা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর উল্টো সুর

ডেস্ক: সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ বলে মন্তব্যের পর এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাহরিকে খতমে নুবুওয়্যাত বাংলাদেশের আমির ইসলামী বক্তা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসি। তিনি দাবি করেছেন, সব সাংবাদিককে গালিগালাজ করেননি; বরং যারা হলুদ সাংবাদিকতা করেন এবং টাকার বিনিময়ে সংবাদ পরিবর্তন করেন, তাদের সমালোচনা করেছেন। ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো সাংবাদিকদেরও এ সমালোচনার আওতায় রেখেছেন বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা উত্তরখান থানার চাঁনপাড়া বাজারের মরহুম ইসলাম উদ্দিন খান সুপার মার্কেটে আল মাদরাসা রাহিমিয়া তালিমুল কুরআনের মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আব্বাসি।

তিনি বলেন, ‘আমি সব সাংবাদিককে গালিগালাজ করিনি। সাংবাদিকদের মধ্যে যারা হলুদ সাংবাদিকতা করেন, আমি তাদের গালি দিয়েছি। যারা টাকার বিনিময়ে হিরোকে জিরো বানান, আবার জিরোকে হিরো বানান, আমি তাদের বিরোধিতা করেছি।’

সাংবাদিকতাকে উত্তম পেশা উল্লেখ করে আব্বাসি বলেন, একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ভালো সাংবাদিকতার প্রয়োজন রয়েছে। দেশে অধিকাংশ সাংবাদিক টাকা পেলে সংবাদ পরিবর্তন করে ফেলেন। তারা ভালো মানুষের চরিত্র হনন করেন। আবার টাকার বিনিময়ে চরিত্রহীন মানুষের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এ ধরনের সাংবাদিকদের আমি যদি গালি দিয়ে থাকি, তাহলে কি ভুল করেছি?’

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আব্বাসি। সেখানে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন। ওই মাহফিলে আব্বাসি বলেন, ‘ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অবশ্যই এটা ঠিক। তার পিস্তল উঁচিয়ে ধরার পদ্ধতিটা খারাপ ছিল, উদ্দেশ্য মহৎ ছিল। কিন্তু একদল সাংবাদিক সেটা নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছে।’

সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকেরা ইতিবাচক সংবাদ প্রচার করলে মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের অভিযান নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু ‘হলুদ সাংবাদিকেরা’ তা করেননি। এ সময় তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ এরা। এদেরকে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।’

পরে মাহফিলে ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ নিয়ে আব্বাসীর দেওয়া ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *