শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে ড্রেজার দিয়ে কৃষি জমিতে মাটি ভরাটের হিড়িক চলছে । তবে দুটি ইউনিয়নের চিত্র খুবই ভয়াবহ ।
আড়িয়াল বিল পাড়ের এ দুটি ইউনিয়ন হচ্ছে শ্রীনগর সদর এবং ষোলঘর ইউনিয়ন।
উভয় ইউনিয়নে ফসলি জমিতে বালু ভরাটের কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন মূলতঃ শ্রীনগর ইউনিয়নের
ড্রেজার সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কন্দনপাড়া গ্রামের মোতাই শেখের ছেলে কথিত বিএনপি নেতা টিটু এবং আলী মীরের ছেলে সায়েদের ছত্রছায়ায় চলছে প্রায় ১৫/২০ টি ড্রেজার। সেতুর নিচ দিয়ে বালুবাহী বাল্কগেট যাতায়াতে ৫কোটি ব্যয়ে সেতু হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা যায় , উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয় উপজেলার বাউন্ডারি ওয়াল থেকে শ্রীনগর আলমপুর খালের ষোলঘর কালিবাড়ি লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত এসব ড্রেজারগুলোর দেখভালের দয়িত্বে রয়েছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , সায়েদের ড্রেজারটির অবস্থান ষোলঘর মাঝিপাড়া খালের মোড়ে এবং টিটুর ড্রেজারটি রয়েছে গোয়াল বাড়ি ব্রীজ সংলগ্ন। দিনরাত এই ব্রীজের নিচ দিয়ে বালু বোঝাই বডিগুলো যাতায়াত করায় ক্ষত-বিক্ষত
হয়ে যাচ্ছে মাঝখানের পিলার।
মাস্টার শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন , আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর নির্মাণ হবে বলে তৎকালীন এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রচেষ্টায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়েছিল এই গোয়াল বাড়ি ব্রীজ। অথচ দেখার কেউ নেই বলে ড্রেজার ও বালু বাহী বাল্কহেডের
ধাক্কায় গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির স্থায়ীত্ব এখন হুমকির মুখে ।
খালের দুই পাড়ের বাসিন্দারা জানান, ড্রেজারের বিকট শব্দে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া শিশু বাচ্চা, বৃদ্ধ ও রোগীদের রাতের ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটছে ।
শ্রীনগর ইউনিয়নে ড্রেজার বানিজ্যের আরেকটি চক্র ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সোহাগ মোড়লের নেতৃত্বে আড়িয়াল বিলের পূর্বাঞ্চল ভরাটের কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন। এখানে রয়েছে আতা , আলমগীর ও সোহাগসহ বেশ কয়েক জনের ড্রেজার । তারা দীঘির পার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে পাইপ টেনে পূর্ব চক এবং দীঘির পশ্চিম দিকের বিল ভরাটের কাজে দিন রাত ব্যাস্ত রয়েছে ।
বেপরোয়া ড্রেজার সিন্ডিকেটের এসব লোকজন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দিন রাত
ভরাট করে চলছে আবাদি জমিসহ ডোবা, নালা , পুকুর ও জলাশয় । এতে ক্রমশ ফসলি জমি যেমন বিলুপ্ত হতে চলেছে , তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে ।
শ্রীনগর কল্যান সমিতির সভাপতি িএম লতিফ বলেন, সরকারের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি ফসলি জমি ভরাট বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় , তাহলে এদেশে একসময় আবাদি জমি বলতে থাকবেনা কিছুই।
এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারেফ হোসাইন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন , আমরা অভিযান করেছি। জনপ্রতিনিধিদের-ও দায়িত্ব রয়েছে । ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবদেরকে ও বলা
হয়েছে । এ নিয়ে কাজ চলতেছে ।
