নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান চেয়ে মায়ের আকুতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: একজন মায়ের করুন আর্তনাদ আমার নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান দাও। আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না। যেখান থেকে পারো আমার বুকের ধনকে আমার কাছে এনে দাও। এই বিলাপ করতে করতে বুক চাপড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিখোঁজ তানভীরের মা তাছলিমা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে
ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের আন্তা গ্রামের মনোয়ার খান ও তাছলিমা বেগম দম্পত্তির ছেলে তানভীরকে না পেয়ে বিলাপ করছেন তাছলিমা বেগম।

তানভীরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জে কাজে যাওয়ার সময় তানভীর খান(২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ তানভীর মানিকগঞ্জ জেলার মানিকগঞ্জ উপজেলার দেড়গ্রামে শশুরবাড়ি থেকে আকিজ কোম্পানির টেক্সটাইল মিলে প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করতো। তানভীর বাই সাইকেলে করে বাসা থেকে কাজে যাওয়া আসা করতো। কোন সময় দিনে এবং কোন সময় রাতে ডিউটি পরতো তার। গত ১৪ ই সেপ্টেম্বর রাতে বাসা থেকে ডিউটিতে যাওয়ার সময় পুলিশ ক্যাম্প নামক জায়গা থেকে নিখোঁজ হয় তানভীর।

তানভীরের মা তাছলিমা বেগম জানান, আমি ছেলের নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেই রাতে সেখানকার ঘটনার প্রত্যক্ষদোর্শী ১৫/১৬ বছর বয়সী এক কিশোর জানান, হঠাৎ একটি শব্দ পেয়ে সে দৌড়ে রাস্তায় এসে দেখি মোটরসাইকেলের সাথে একটি বাই সাইকেলের এক্সিডেন্ট হয়েছে। মোটরসাইকেলে দুজন ছিলো, তাদের কিছু হয়নি কিন্তু সাইকেল চালকের অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। আমি সাইকেল চালকের কাছে গিয়ে তাকে টেনে তুলে দেখি সে এখনো বেঁচে আছে। এরমধ্যে মোটরসাইকেলের দুইজন এসে আমাকে বললো আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। একথা বলে তাকে ঢাকার দিকে নিয়ে যায়।

তানভীরের মা কান্না জড়িত কন্ঠে আরো জানান, আমি অনেক হাসপাতালে খোঁজ করেছি কোথাও পাই নি। আমি আমার ছেলের সন্ধান চাই। আমার ছেলেকে এনে দাও তোমরা।

এবিষয়ে তানভীরের শশুর নজরুল মানিকগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ জিডি করেন। জিডি নং ১০৬৬ তারিখ ১৭/০৯/২৪ ইং।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সায়েম চৌধুরী বলেন আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জীবিত কিংবা লাশ হউক উদ্ধার করার জন্য ঢাকা, সাভার, ধামরাই ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন ক্লিনিক , হাসপাতাল সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *