মো. রকিবুল হাসান(মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ও সিংগাইর উপজেলার চরজামালপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে খননে ব্যবহার হচ্ছে ছিল স্থানীয় লক্কর-জক্কর ড্রেজার।তাছাড়া একই স্থানে ড্রেজার বসিয়ে নদী খননের কারনে তলদেশ থেকে বালু সরে গিয়ে বর্ষাকালে এলাকার বসত বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারনা ছিল।
সরকারের মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে নদী খনন প্রকল্পের মাধ্যমে নদী প্রবাহ ঠিক রাখার কথা থাকলেও এ নদী খনন কাজ শেষ পর্যন্ত সঠিক ভাবে সম্পন্ন হবে কিনা এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ীরা এ নদী খননের কাজ করার সুযোগে একাধিক বসত বাড়ীতে সরকারী বালু ফেলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ড্রেজার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা।
এ সরকারী বালু বিক্রির সিন্ডিকেটের মূলহোতা সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের চরজামালপুর গ্রামের মো. আয়নালের পুত্র মো. রিপন হোসেন, হৃদয় ও তার ভাতিজা সলিমুদ্দিন। ইতিপূর্বে এদের বিরুদ্ধে রয়েছে নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু বিক্রির অভিযোগ। এ নিয়ে পত্র পত্রিকায় এদের বিরুদ্ধে সংবাদ ও প্রকাশ হয়েছে অনেকবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সরকার সারাদেশে নদীনালা খালবিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদী খনন করে নদীর প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য এ প্রকল্প হাতে নেন। সারা দেশের ন্যায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ও সিংগাইর উপজেলার চরজামালপুর সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার ধলেশ্বরী নদী খননের কাজ ৪ই জুন ১৯ ইং হতে শুরু হয়। নিয়মানুযায়ী নদী খননের বালু নদীর পাড়ে, বাধ নির্মাণ করে বনায়ণ করা, ড্রাম্পিং করে বালু সংরক্ষণ করে টেন্ডারের মাধ্যমে বালু বিক্রি করে সরকারী কোষাঘারে অর্থ জমা করা। এছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে সরকারি কাজে রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা কবরস্থানে এ বালু ব্যবহার করা যাবে।
এ নিয়মকে উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বসতবাড়িতে বালু বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল স্থানীয় ঐ ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব কন্ট্রাকটর যোবায়ের এর মাধ্যমে নদী খননের কাজ পান ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. রিপন হোসেন তার ভাই সুমন ও ভাতিজা সলিমুদ্দি।
এ কাজের সূত্র ধরে কৃষ্ণপুর ও জামালপুর গ্রামের ছমির উদ্দিন, বারেক, বজলু, আবুল, কহিনূর, জাহাঙ্গীর, ফরিদ, আওয়াল, শহিদুল, আব্দুল মজিদ, রাশেদা, নবীনের ভিটে বাড়ি ও নিচু জায়গায় সরকারি বালি ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী রাজিব মাহমুদ বুধবার (২০ই মে) সকাল ১১টার দিকে ঐ স্থানে অভিযান পরিচালনা করে নদী খননে অনিয়ম ও অবৈধভাবে বালু বিক্রির অপরাধে ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. রিপনকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং দ্রুত ড্রেজার সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।
